kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

চুরির অভিযোগ

বিজয়নগর-হাতিয়ায় সাত শিশু-কিশোরকে নির্যাতন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মোবাইল ফোনসেট চুরির অপবাদ দিয়ে এক কিশোর ও এক শিশুকে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি নিয়ে বিজয়নগর থানায় মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে হাতিয়ায় এক জেলের মাছ ধরার জাল চুরির অভিযোগে পাঁচ কিশোরের ওপর নির্যাতন চালিয়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনায় মাতবরসহ নির্যাতনকারী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিয়া থানা পুলিশ। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজয়নগরে নির্যাতনের শিকার শিশু মো. ইয়াকুব (১২) উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের পশ্চিম মেরাসানী গ্রামের মজনু ভুঁইয়ার ছেলে আর কিশোর মোস্তাকিম একই ইউনিয়নের খিরাতলা গ্রামের মাহফুজ মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তার তিনজন হলো মেরাসানী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মান্না, মিন্টু মিয়ার ছেলে মান্নান মিয়া, ধন মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া। এদের আদালতের মাধ্যমে গতকাল সোমবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত রবিবার ইয়াকুব ও মোস্তাকিমকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করা হচ্ছে। আরো বেশ কয়েকজনকে এ নির্যাতনে অংশ নিতে দেখা যায়।

নির্যাতনের শিকার ইয়াকুবের খালা ফরিদা ইয়াসমিন জানান, পিতৃহীন ইয়াকুব তার নানার বাড়িতে থাকে। শনিবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় চৌকিদার বাবু, রুবেল, মান্নাসহ কয়েকজন রাতভর নির্যাতন করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে ইয়াকুবের মামা জাকির হোসেন সেখানে গিয়ে দেখেন মোস্তাকিম নামে আরেক কিশোরের ওপরও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ইয়াকুবকে উদ্ধার করে তাঁরা আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এরই মধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ও পুলিশ অবগত হয়।

স্থানীয়রা জানান, তিন-চার দিন আগে মেরাসানী গ্রামের রুবেলের বোনজামাইয়ের বাড়িতে মোবাইল ফোনসেট চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সন্দেহ করে ইয়াকুব ও মোস্তাকিমকে ডেকে নিয়ে একটি বাড়িতে আটকে দফায় দফায় নির্যাতন চালানো হয়।

এ ঘটনায় ইয়াকুবের নানি আরিজা বেগম বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে বিজয়নগর থানায় মামলা করেন।

বিজয়নগর থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, নির্যাতনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

এদিকে হাতিয়ায় গ্রেপ্তাররা হলো উপজেলার চর কিং ইউনিয়নের শুল্লুকিয়া গ্রামের জেলেপাড়ার মাতবর শ্রীহরি জলদাস, নেপাল চন্দ জলদাস, বিধান চন্দ জলদাস, রায় মেহেন জলদাস ও প্রিয়লাল জলদাস।

গত রবিবার সকাল পৌনে ১১টায় উপজেলার চর কিং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শুল্লুকিয়া গ্রামের জেলেপাড়ার গ্রাম্য সালিসে ওই পাঁচ কিশোরকে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানোর এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার কিশোররা হলো উপজেলার চর কিং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শুল্লুকিয়া গ্রামের জেলেপাড়ার বাসিন্দা কিশোর পদ দাস (১৫), কিরণ (১৫), শিশুপদ, (১৬), সমূল্য (১৫) ও রতন (১৬)।

এই নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে জেলা পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। পরে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে হাতিয়া থানা পুলিশ এ ঘটনায় রাতেই চারজনকে আটক করে। আর গতকাল সোমবার সকালে আরো একজনকে আটক করা হয়।



সাতদিনের সেরা