kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ২৯ মে পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কওমি মাদরাসাসহ দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ২৯ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত শনিবার ও গতকাল রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মূলত করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ও ঈদ-পরবর্তী করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেই মাত্র এক সপ্তাহের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কভিড-১৯-সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শক্রমে চলমান ছুটি আগামী ২৯ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য সব ধরনের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কিন্ডারগার্টেনের চলমান ছুটি ২৯ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করবে এবং এর পাশাপাশি অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তা ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বাসায় অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবকদের মাধ্যমে নিশ্চিত হবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

এর আগে গত ৩০ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ছুটি ২২ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ মে থেকে আবাসিক হল ও ২৩ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই ছুটি আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হলো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া হচ্ছে না। তাই আমরাও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে চাই। সম্প্রতি করোনা শনাক্তের হার কমছে, যা আমাদের জন্য খুশির খবর। তবে ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। এ ছাড়া ঈদে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে গেছে। তাই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ও ঈদ-পরবর্তী পরিস্থিতি দেখার জন্যই এ ছুটি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জানা যায়, গত বছরের মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। অনলাইনে পড়ালেখা চললেও সব শিক্ষার্থীকে এর আওতায় নিয়ে আসা যাচ্ছে না। মফস্বলের শিক্ষার্থীরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এমনকি চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হলেও তাদের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া অন্য সব ধরনের পরীক্ষাও বন্ধ, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে মহাসংকট। 

এদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তাতে একমত হতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। তাঁরা যেকোনো মূল্যেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পক্ষে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে একত্র হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় না খুললে তাঁরা বড় আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।