kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

এনওসি না পেয়ে ওপারে আটকা বহু বাংলাদেশি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এনওসি না পেয়ে ওপারে আটকা বহু বাংলাদেশি

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভেরিয়েন্ট ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। ফলে চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে ভারতে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি দেশে ফিরতে পারছে না। দেশে ফেরার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না পাওয়ায় অনেকে আটকে আছে সীমান্তের ওপারে। সবচেয়ে বেশি মানুষ আটকে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে। এদিকে যেসব বাংলাদেশি এরই মধ্যে দেশে প্রবেশ করেছে, তাদের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল কিংবা হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা ও দামুড়হুদা প্রতিনিধি জানান, দূতাবাসের অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরতে পারেনি ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা। গতকাল দুপুর পর্যন্ত এই চেকপোস্ট দিয়ে কোনো বাংলাদেশি দেশে প্রবেশ করেনি।

করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীন জানান, চিকিৎসাসহ নানা কাজে ভারতে গিয়েছিল—এমন তিন শতাধিক বাংলাদেশির এই চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করার কথা। অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় তারা এখনো দেশে ঢুকতে পারেনি। তবে স্থানীয় প্রশাসন সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলেও জানান তিনি।

গতকাল দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, কলকাতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যারা গেদে হয়ে এই সীমান্ত দিয়ে ফিরবে, করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা নেওয়া হয়েছে। ওই পরীক্ষার পর তাদের দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম) জানান, ভারত থেকে চট্টগ্রামে আসা ৪৩ জনের মধ্যে চারজনের শরীরে করোনাভাইরাস মিলেছে। তাদের তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এবং একজনকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এই চারজন আখাউড়া ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছে। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এস এম হুমায়ুন কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই চারজনের মধ্যে কারো শরীরে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে ২৩ মের আগে কোনো বাংলাদেশি দেশে প্রবেশ করতে পারবে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন চলায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে গতকালও ২৭ জন দেশে ফিরেছে। গত তিন সপ্তাহে এ নিয়ে ৬২৭ জন বাংলাদেশি আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরল। তাদের মধ্যে ৩২৭ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম। তবে তাদের করোনা পরীক্ষা করা হয়নি।

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরা ২০২ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন শিক্ষার্থীর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। তাদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে গতকাল তৃতীয় দফায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৩ জন। মোট ছাড়পত্র পেল ৩৫ জন।

বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, পশ্চিমবঙ্গে টানা ১৫ দিনের লকডাউন শুরু হওয়ায় এই সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল অনেক কমে গেছে। তবে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রয়েছে। বেনাপোল চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, গতকাল সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের এনওসি নিয়ে পাঁচজন দেশে ফিরেছে।