kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

আপাতত কাটা যাবে না সোহরাওয়ার্দীর গাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা ও খাবারের দোকান নির্মাণের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে করা আদালত অবমাননার আবেদনটি শুনানির জন্য ২০ মে দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। তবে এ সময় পর্যন্ত যাতে গাছ কাটা না হয়, তা নিশ্চিত করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

অন্যদিকে স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ করার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫০টি গাছ কাটা হয়েছে, আরো ৫০টি কাটা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গাছ কাটার ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের কোনো অবহেলা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। গতকাল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৯ মে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামিম আখতার এবং প্রধান আর্কিটেক্ট অব বাংলাদেশ মীর মনজুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। আবেদনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধ করে রেস্টুরেন্টের কার্যক্রম স্থগিত এবং যে নকশার ভিত্তিতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে তা আদালতে দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। 

গতকাল আদালত অবমাননা আবেদনের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাহেরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে মনজিল মোরসেদ আদালতে বলেন, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। উল্টো সেখানে গাছ কেটে রেস্টুরেন্ট ও দোকান বানানো হচ্ছে। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, একই ঘটনায় পৃথক একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। ১৯ মে সেই আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তাই এখন এ আবেদনের ওপর শুনানির প্রয়োজন নেই। এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে মনজিল মোরসেদ বলেন, এটা আদালত অবমাননার মামলা। রুল জারির আগ পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করতে পারেন না। এ সময় আদালত বলেন, আদালতকে সহযোগিতার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শোনা হচ্ছে। এ পর্যায়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। হাইকোর্টের বিচারপতিদের জন্য এই উদ্যান থেকে অক্সিজেন উৎপাদন হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এখন কোনো গাছ কাটা হচ্ছে না। তাই এই মুহূর্তে এ মামলার শুনানি জরুরি নয়। এ সময় আদালত ২০ মে শুনানির দিন ধার্য করেন এবং এ সময় পর্যন্ত কোনো গাছ যাতে কাটা না হয় তা নিশ্চিত করতে বলেন অ্যাটর্নি জেনারেলকে। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল সম্মতিসূচক জবাব দেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে গাছ কাটা বন্ধে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিতে গত ৬ মে তিন বিবাদীকে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর ৯ মে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা আপাতত বন্ধ। পরিবেশবিদ, উদ্যানবিদ, নগরবিদ ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঈদের পর সভা করা হবে। তাঁদের পরামর্শে প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় তা-ও করা হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খাবারের দোকান বা ভাতের হোটেল বানানোর জন্য গাছ কাটা হচ্ছে বলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সত্যিই দুঃখজনক। প্রকৃতপক্ষে মুক্তিসংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থানসমূহ সংরক্ষণে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই আলোকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্থানসমূহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গৃহীত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যানের ছোট-বড় কিছু গাছ কাটা হলেও প্রথম পর্যায়ে প্রায় এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশের উদ্যানতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার যেকোনো ধরনের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে পরিবেশবিদসহ সর্বসাধারণের উদ্বেগকে আমরা শ্রদ্ধা করি। বঙ্গবন্ধুর রক্তের ও আদর্শের উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশকেও সমান গুরুত্ব দেয়। আমরা পরিবেশের বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করছি।’



সাতদিনের সেরা