kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

ঈদ ঘিরে চলছে নীরব চাঁদাবাজি

৩৫৮টি ছিনতাই স্পটে বিশেষ নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ঈদ ঘিরে কারওয়ান বাজারে কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নীরবে চাঁদা আদায় করছে একদল সন্ত্রাসী। চাঁদা দিতে রাজি না হলে মারধর করা হয়। ভয়ে কেউ কথা বলে না। পেপারে আমার নামটা লেইখেন না। তাহলে আমারে মাইরা ফালাবো’, গত সোমবার দুপুরে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন চাঁদাবাজদের মারধরের শিকার এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে আরো অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়মিত তাঁরা পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, কেউ কেউ ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিচ্ছেন। সন্ধ্যার দিকে এসে সন্ত্রাসীরা চাঁদার টাকা নিয়ে যায়।

ঈদ সামনে রেখে কারওয়ান বাজারের মতো রাজধানীর মিরপুর এলাকার বিভিন্ন মার্কেটেও চলছে নীরব চাঁদাবাজি। পাশাপাশি ছিনতাই, অজ্ঞান ও মলম পার্টি, জাল টাকার কারবারি, চোর, ডাকাতসহ অন্য অপরাধীরাও বেশ তৎপর। রাজধানীতে গত ১৫ দিনে ২০টির বেশি ছিনতাই এবং দুজনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বাসাবাড়িতে চুরি-ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে। বোরকা, হিজাব পরে নারীরা কৌশলে বিভিন্ন ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে চুরি করে সটকে পড়ছে। সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে তৎপর। ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোনের সব থানা এলাকায় প্রায় ৩৫৮টি ছিনতাই স্পট রয়েছে। প্রতি ঈদের আগে এসব স্পটে ছিনতাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে এসব এলাকায় রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে। পুলিশ ও র‌্যাবও এদের পাকড়াও করতে এবার প্রস্তুত।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ঈদ ঘিরে তালিকাভুক্ত অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। ঈদের আগে মানুষের আর্থিক লেনদেন বাড়ে। সেই সঙ্গে মানুষ গ্রামের দিকে ছুটতে থাকে। এই সুযোগ নেয় অপরাধীরা।

কারওয়ান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজির বিষয়ে র‌্যাব-২-এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন চাঁদাবাজকে এরই মধ্যে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিনজন হলেন মোহাম্মদ রনি, লিটন ও মিলন। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলিভর্তি ম্যাগাজিন ও ৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের অন্য সহযোগীদেরও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

রাজধানীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে লালবাগ থানার ওসি কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদের আগে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা টহল টিম বাড়িয়েছি। তারা বিভিন্ন রাস্তার এবং অলিগলিতে শিফটিং করে ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। এ ছাড়া বাসার মালিক ও ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তাবিষয়ক নানা ধরনের নির্দেশনা নিয়ে মাইকিং করা হয়েছে। বাসার দারোয়ানদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে ইফতারের আগে-পরে এবং ভোরে বিভিন্ন রাস্তায় বেশি নজরদারি করা হচ্ছে। মহল্লাভিত্তিক নিরাপত্তার বিষয়ে বলা হচ্ছে, যাঁরা ঢাকা ছাড়বেন বাসার মূল্যবান স্বর্ণালংকার যেন নিকটাত্মীয়ের কাছে কিংবা সঙ্গে নিয়ে যান। আর বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা যেন সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়।’



সাতদিনের সেরা