kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

চিকন সেমাইপল্লীতে মহামারির ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১২ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিকন সেমাইপল্লীতে মহামারির ছায়া

করোনা মহামারির কারণে বগুড়ার ‘চিকন সেমাইপল্লীতে’ এবার ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা নেই বললেই চলে। গত বছর কিছুটা বিক্রি হলেও এবার এই পল্লীর অধিকাংশ কারখানাই বন্ধ। সেমাই তৈরির অনেক যন্ত্রে এরই মধ্যে মরিচা পড়ে গেছে। বেকার বসে আছেন এই কাজে নিয়জিত কয়েক হাজার নারী-পুরুষ।

বগুড়ার বেজোড়া, কালসিমাটি, রবিবাড়িয়া, নিশ্চিন্তপুর ও এরুলয়া গ্রামের অনেক বাড়ি এবং কারখানা ঘুরে সেগুলো বন্ধ দেখা গেছে। লকডাউনের কারণে সেমাই সরবরাহ নিয়ে তাঁদের মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তা। ব্যবসায়ী ও পাইকাররা সেমাই কিনতে আসছেন না।

এরুলিয়া গ্রামের সেমাই কারখানার মালিক মনিরুজ্জমান ও বেজোড়া গ্রামের আবুল কাশেম জানান, বগুড়া ছাড়াও দেশের প্রায় ৫০টি জেলায় তাঁদের সেমাই সরবরাহ হয়। কিন্তু গত বছর থেকে সেই ব্যবসায় প্রায় ধস নেমেছে। এবার রমজানের শুরু থেকেই লকডাউন থাকায় সেমাইয়ের জন্য মহাজনরা কোনো চুক্তি করতে পারেননি। গত সপ্তাহে সীমিত পরিসরে কারখানা খোলা হলেও দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায় জেলার বাইরে সেমাই পাঠানো যায়নি। এ কারণে ৯৫ শতাংশ কারখানাই বন্ধ। হাতেগোনা দু-চারটি কারখানায় সীমিত আকারে সাদা সেমাই তৈরি হচ্ছে।

আব্দুল হামিদ নামে একজন বলেন, ‘ট্রাকে করে সেমাই পাঠানো সম্ভব হলেও ভাড়া লাগছে দ্বিগুণেরও বেশি। এ কারণে বগুড়া জেলার বাইরে কোনো সেমাই পাঠানো হচ্ছে না।’

কালসিমাটি গ্রামের শ্রমিক রোকসানা বেগম জানান, আগে সারা মাস কাজ হতো। এবার কাজ হয়নি বললেই চলে। কারখানায় কাজ করে তারা দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পেতেন। সেই টাকায় ঈদের খরচ চলত তাদের। কিন্তু গত বছর থেকে ঈদ উদযাপন করতে পারছেন না তাঁরা।

শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নে বেজোড়া গ্রামটি থেকে চিকন সাদা সেমাইয়ের জন্ম। স্বাধীনতার পর এ গ্রামের কয়েকটি পরিবার প্রথম চিকন সেমাই তৈরি শুরু করেন। সময়ের ব্যবধানে এ শিল্প বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এখানকার তৈরি চিকন সাদা সেমাইয়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার কারখানা রয়েছে। প্রতিটি ছোট কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ৫০০ কেজি করে সেমাই তৈরি হয়। বড় কারখানায় হয় এর চার গুণ। বর্তমানে প্রতি কেজি সেমাই খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

আব্দুল হান্নান নামের এক মালিক বলেন, ‘মাঝে সরকারের সিদ্ধান্তে দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়ার পরপর শ্রমিকরা ছুটে আসেন কারখানাগুলোতে। কিন্তু রোজা বেশির ভাগ চলে গেছে। বেশি উৎপাদন করার সুযোগ নেই। এখন সেমাইপল্লীর কিছু কারখানায় স্বল্প পরিসরে কাজ চলছে।’ তিনি জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় তাঁর কারখানায় ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করেন। সেমাইয়ের চাহিদা না থাকায় এবার কাজ করছেন আটজন।

বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি মাহফুজুল ইসলাম রাজ বলেন, ‘করোনার কারণে চিকন সেমাই উৎপাদন কমে গেছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ মন্দাভাব কাটবে না।’