kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

‘যেই নেতা সেই খাদক’

মোহাম্মাদ বাবুল আকতার, মণিরামপুর (যশোর)   

১২ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালে গত বছর ঈদুল ফিতরের সময় কর্মহীন দুস্থদের আড়াই হাজার টাকা করে দিয়েছিল সরকার। সেই সময় যশোরের মণিরামপুরে খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাত নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় প্রতিনিধি হিসেবে তালিকা করার সুযোগ পান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুকুল হোসেন। তখন তিনি তালিকায় নিজ পরিবারের সবার নাম দিয়ে সমালোচিত হন।

এবারের ঈদে দুস্থ-অসচ্ছল পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ৫০০ টাকা উপহারের তালিকা করার ক্ষেত্রে মুকুলের পরিবর্তে সুযোগ পান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন। তিনিও নিজ গোত্রের ৯ জনের নাম দিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। 

তালিকাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা, উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের মাহমুদকাটি গ্রামের ইসমাইল হোসেন দলীয়ভাবে সাত নম্বর (মাহমুদকাটি-কদমবাড়িয়া) ওয়ার্ডে ১৭ জনের নাম দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এই সুযোগে ১৭ জনের মধ্যে তিনি নিজ গোত্রের ৯ জনের নাম দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে নিজের পরিবারের সাতজনের নাম, যাঁরা কেউ দুস্থ নন। তাঁরা হলেন ইসমাইল হোসেন নিজে, তাঁর স্ত্রী, কলেজপড়ুয়া ছেলে রনি পারভেজ, অন্য এলাকায় ধনাঢ্য পরিবারে বিয়ে দেওয়া মেয়ে সাবিনা খাতুন, দুই ভাই গোলাম মোস্তফা ও আবু হানিফ এবং চাচাতো ভাই হোসেন আলী, আবুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী রোজিনা বেগম। এ ছাড়া ইসমাইল হোসেনের দলীয়ভাবে দেওয়া বাকি আটটি নামের ব্যাপারেও রয়েছে স্থানীয়দের আপত্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদকাটি গ্রামে আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে দলীয় প্রতিনিধি দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় নিজের ও কলেজপড়ুয়া ছেলের নাম দিয়েছেন। এ ছাড়া তালিকা তৈরিতে আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতিরও অভিযোগ উঠেছে। তিনি সুযোগ পেয়ে নিজের পছন্দের সব নাম দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসমাইল হোসেন পরিবারের সবার নাম দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘তালিকাসংক্রান্ত পরিষদে মিটিংয়ের দিন ইউপি সচিব বলেছিলেন, ‘আপনারা প্রতিনিধি হিসেবে কোনো খরচ পাবেন না। নিজেদের দুই-একটি নাম দিয়ে ম্যানেজ করে নিয়েন।’ সচিবের কথা শুনে আমি নামগুলো দিয়েছি।’

এ বিষয়ে খেদাপাড়া ইউপি সচিব মৃণাল কান্তি বলেন, ‘চেয়ারম্যান, মেম্বার বাদে দলীয় প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হয়েছে তালিকা স্বচ্ছ করার জন্য। তাঁরা যদি নিজেদের নাম দিয়ে অনিয়ম করেন সেটা মানা যায় না।’

খেদাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ‘তালিকা তৈরিতে সরকারিভাবে দলীয় প্রতিনিধি নেওয়ার কথা উল্লেখ নেই। স্থানীয় চাপে তাঁদের দেওয়া নাম নিতে হয়। তাঁরা অনিয়ম করলে কিছু করার থাকে না।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ বায়েজিত বলেন, ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের ৪৫০ টাকা বাদেও ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ৫০০ জনকে নগদ ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। চেয়ারম্যান, মেম্বারদের বলা হয়েছে দলীয় প্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকা যাচাই করে নেওয়ার জন্য। মাহমুদকাটি গ্রামের অভিযুক্ত নামগুলোর টাকা স্থগিত রাখতে খেদাপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান ও সচিবকে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, খেদাপাড়া ইউনিয়নে ৫০০ টাকার তালিকায় অনিয়মের খবর পেয়ে স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। তালিকা যাচাই করতে চেয়ারম্যান ও সচিবকে বলা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা