kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

গ্যাং বিরোধে শাকিল হত্যা

নেপথ্যে চাঁদাবাজি আর টাকার বিরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেপথ্যে চাঁদাবাজি আর টাকার বিরোধ

রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে ফুটপাতে চাঁদাবাজি ও টাকা লেনদেনের বিরোধের জেরেই আরেফিন শাকিল হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন ভুইয়া সাব্বিরের সঙ্গে আড়াই লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল শাকিলের। আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ফুটপাতে দোকান দিলে ‘বন্ধু’ সাব্বিরের ঘনিষ্ঠ মৃদুল শিকদার চাঁদা দাবি করেন শাকিলের কাছে। এ নিয়ে তাঁদের তর্ক হয়। চার দিন আগে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া ‘দুধ’ শামীমের সঙ্গে চলাফেরা নিয়েও সাব্বির আর শাকিলের ঝগড়া হয়। দক্ষিণখান থেকে আব্দুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ আইসি হাসপাতাল এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী উঠতি বয়সের গ্যাং গ্রুপে জড়িত তাঁরা সবাই। নিজস্ব গ্রুপে বিরোধের জেরে এক বছর আগে সাব্বিরও হামলার শিকার হন। পুলিশের তদন্তকারী ও পারিবারিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গতকাল শাকিল হত্যার ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাব শাকিলের বন্ধু, দুই বান্ধবীসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এ ব্যাপারে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এরা কেউ ভালো ছেলে নয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও আছে। এক বছর আগে সাব্বিরকেও কোপানো হয়। তার সঙ্গে শাকিলের টাকার লেনদেন আছে। আরো কিছু বিষয় নিয়েও বিরোধ আছে। আমরা প্রতিটি বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি।’

শাকিলের বড় ভাই শাহাদাত হোসেন জানান, শাকিল তাঁর সঙ্গে ইন্টারনেটের কাজ করতেন। পাশাপাশি আধুনিক নৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন বলে সবাই তাঁকে ড্যান্সার শাকিল বলত। ঈদ উপলক্ষে সম্প্রতি তিনি আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ফুটপাতের দুই স্থানে দোকান বসান। এতে মৃদুল শিকদার তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন। শাকিল চাঁদা দেবেন না বলে জানান। এতে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। চার দিন আগে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পান আরেক উঠতি সন্ত্রাসী ‘দুধ’ শামীম। তাঁর সঙ্গে চলার কারণে সাব্বিরের সঙ্গে শাকিলের ঝগড়া হয়। জানতে চাইলে শাহাদাত বলেন, ‘সাব্বিরের সঙ্গেই চলত শাকিল। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর ডেকে নিয়ে ওদের সঙ্গে নিয়ে মেরেছে।’ শাহাদাত বলেন, ‘রবিবার প্রথমে ইফতারের দাওয়াত দেওয়া হয় শাকিলকে। সেখানে শাকিল না গেলে ফুচকা খেতে বান্ধবী নিয়ে যেতে বলে। শাকিল ও তার বন্ধু সাগর তাদের দুই বান্ধবী নিয়ে আইসি হাসপাতালের কাছে গেলে কৌশলে শাকিলকে আলাদা করে ছুরিকাঘাত করা হয়। সাগর এগিয়ে গেলে তাকেও আহত করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শাকিলের মৃত্যুর পর তার বন্ধুরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে যেতে চায়। এ কারণে পুলিশ শাকিলের বন্ধু জুবায়ের, নয়ন ও সাগরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।’ দুই বান্ধবী কল্পনা ও মিথিলাকেও আটক করা হয়েছে। তবে তারা খুনে জড়িত নয় বলে দাবি করেন শাহাদাত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুইয়াপাড়া এলাকায় ভুইয়া সাব্বির নিজস্ব গ্যাং গড়ে তুলেছেন। আইসি হাসপাতাল এলাকায় মৃদুলের আছে উঠতি সন্ত্রাসী গ্রুপ। তারা এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভ টিজিং, মাদক বিক্রি, সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। শাকিল তাদের গ্রুপের সদস্যই ছিলেন।

গত রবিবার রাতে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ আইসি হাসপাতালের কাছে ডেকে নিয়ে সাব্বির, ‘দুধ’ শামীম, মৃদুলসহ কয়েকজন শাকিলকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। শাকিল দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকার তাইজুল ইসলামের ছেলে।