kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষার ফল মেলেনি তিন মাসেও

রূপনগরের নূরুল গাজী অপহরণ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর রূপনগরের হার্ডওয়্যার দোকানি নূরুল ইসলাম গাজী (৫০) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার তিন মাস পর একটি কঙ্কাল উদ্ধার হয়। পরে নূরুলের স্ত্রী সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে কঙ্কালটি তাঁর স্বামীর বলে শনাক্ত করেন। এর পরও কঙ্কালের পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়। কিন্তু সেই ডিএনএ প্রফাইল না পাওয়ায় পুলিশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে পারছে না। তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করে হাত গুটিয়ে বসে আছে।

নূরুলের পরিবারের দাবি, পুলিশ ঘটনাটি অন্য খাতে প্রবাহের চেষ্টা করছে। পুলিশ বলছে, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পেয়ে আগে পরিচয় শনাক্ত হতে হবে। এরপর আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। আবার সন্দেহভাজন হিসেবে আটক চারজনকে হাজতে রেখে তাঁদের কাছ থেকে কী তথ্য পেয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কিছু বলছে না। পুরো বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ দুটি বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক।

রূপনগর থানার পুলিশ জানায়, কঙ্কাল উদ্ধারের পরপরই অভিযুক্ত শাকিল, তারিকুল ইসলাম রয়েল, কালু মিয়া ও সোহেল নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডেও নেওয়া হয়। তবে নূরুলের পরিবার মামলাটি পিআইবিতে স্থানান্তরে আবেদন করেছিল। কিন্তু আদালত অনুমতি দেননি।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এক আসামির কাছ থেকে ঘটনাসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। এখন ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ায় অপেক্ষা। কঙ্কালটি নূরুলের বলে প্রমাণিত হলেই গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নূরুলের পরিবার বলছে, গ্রেপ্তারকৃত চারজন ও নূরুল ইসলাম গাজী একটা সময় মাদকের কারবারে জড়িত ছিল। নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন আগে নূরুল মাদকের কারবার ছেড়ে হার্ডওয়্যারের দোকান দিয়েছিলেন। নূরুলের সঙ্গে ওই চারজনের টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এর জের ধরেই ওরা নূরুলকে অপহরণ করে। এর তিন মাস পর গত ২১ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন থানায় কঙ্কালের সঙ্গে লেপ্টে থাকা শার্ট দেখে সেটি নূরুলের বলে শনাক্ত করেন তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম।

গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে নূরুল নিখোঁজ উল্লেখ করে তাঁর স্ত্রী ৪ নভেম্বর রূপনগর থানায় জিডি করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। এতে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি ওই জিডি অপহরণ মামলায় রূপান্তর করে থানার পুলিশ।

নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম ও ছেলে সাব্বির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব আসামি গ্রেপ্তার হলেও পুলিশ তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পুলিশ তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঘটনা অন্য খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ কাউছার কথা বলতে রাজি হননি। তিনি থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য নিয়েছে। এটির রেজাল্ট পেলে মরদেহটি নূরুলের কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ডিএনএ পরীক্ষার ফল পেতে বিলম্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহেই প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রতিবেদন পেতে দেরি হয়ে থাকতে পারে।’