kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

চট্টগ্রামে টিকা না পেয়ে কর্মচারীদের মারধর, বিক্ষোভ

সিটি করপোরেশন হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে টিকা না পেয়ে কর্মচারীদের মারধর, বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজের টিকার জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। টিকা দিতে না পারায় গতকাল রবিবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) জেনারেল হাসপাতালে কর্মচারীদের মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নগরের এই টিকাদান কেন্দ্রের সামনে সড়ক বন্ধ করে টিকা নিতে আসা অনেকে বিক্ষোভ করেন।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এসএমএস ছাড়া যাঁরা টিকা নিতে এসেছেন, তাঁদের টিকা দেওয়া হচ্ছে না। এই নিয়ম সব কেন্দ্রে একই। কিন্তু যাঁরা এসএমএস পেয়ে নির্ধারিত তারিখে আসছেন, তাঁদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। যে পরিমাণ টিকা মজুদ আছে, তা দিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার ও পরদিন বুধবার পর্যন্ত চলবে।

সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতালে বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টিকার সংকট সারা পৃথিবীতে রয়েছে। এর মধ্যেও আমরা টিকা কার্যক্রম চালু রেখেছি। আজকে (গতকাল) যাঁরা এসএমএস ছাড়া টিকা নিতে এসেছেন, তাঁদের আমরা টিকা দিইনি। তাঁরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের স্টাফদের মারধরসহ বিক্ষোভ করেছে। আমরা পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় এসএমএস ছাড়া এবং কেন্দ্র পরিবর্তন করে অনেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে করোনার টিকা নিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও টিকার সংকট দেখা দেওয়ার পর থেকে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এখন এসএমএস ছাড়া আসা ও কেন্দ্র পরিবর্তনকারীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু চসিকের ওই হাসপাতালই নয়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। মজুদ শেষ দিকে আসায় টিকা দেওয়ার হার ক্রমেই শূন্যের দিকে নামছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে এখন ৩০ হাজার ডোজ মজুদ আছে। তা দিয়ে মঙ্গলবার ও বুধবার পর্যন্ত টিকা কার্যক্রম চলবে। তবে কোনো কেন্দ্র এখনো বন্ধ হয়নি। আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মতে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। আশা করছি, ঈদের পর আমরা টিকা পাব।’

এর আগে গতকাল সকাল থেকে নগরের সদরঘাট এলাকার চসিক জেনারেল হাসপাতালে টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন ছিল। টিকা না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে ফিরে যায়। এ সময় কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে টিকা না পাওয়া লোকজন হাসপাতালে দায়িত্বরত কর্মচারীদের মারধর করে। এক পর্যায়ে প্রবেশপথ বন্ধ করে রাখা হয়। এরপর বিক্ষুব্ধরা হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নিলে ওই সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর দুপুর থেকে আবার যান চলাচল শুরু হয়। এ ছাড়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে যাদের এসএমএস ছিল, তাদের সবাই টিকা পেয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়।

তবে টিকা নিতে আসা লোকজন জানায়, গত শনিবার থেকে টিকা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসএমএস আসার পরও হাসপাতাল থেকে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। আবার টিকা না থাকার কথাও বলছে। এতে মানুষ ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।

এদিকে গতকাল চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলোতে মোট চার হাজার ৯২৪ জন করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন। এ নিয়ে গত ৮ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন তিন লাখ ১৬ হাজার ৩০১ জন। এর আগে চট্টগ্রামে প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন চার লাখ ৫৩ হাজার ৭৬০ জন।



সাতদিনের সেরা