kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন

আরো ১৪৪০ প্লট পেলেন পূর্বাচলের ক্ষতিগ্রস্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরো ১৪৪০ প্লট পেলেন পূর্বাচলের ক্ষতিগ্রস্তরা

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার আরো এক হাজার ৪৪০ জন সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ও মূল অধিবাসীকে তিন কাঠা আয়তনের একটি করে প্লটের বরাদ্দপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তাঁদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বরাদ্দপত্র তুলে দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি। এ সময় গণভবন থেকে জুম অ্যাপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

এর আগে সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ও মূল অধিবাসী হিসেবে প্রকল্প এলাকায় প্রত্যেককে তিন কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ দিয়ে ছয় হাজার ৪৪২ জনকে পুনর্বাসন করা হয়।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এ নিয়ে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ও মূল অধিবাসী কোটায় প্লটের বরাদ্দপত্র বুঝে পেলেন মোট সাত হাজার ৮৮২ জন। নতুন করে প্লটপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার ১০০ জন মূল অধিবাসী এবং গাজীপুর জেলার ৪৪১ জন সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ও ৮৯৯ জন মূল অধিবাসী। প্লটপ্রাপ্তদের নামের তালিকা রাজউকের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ০১/২০২১তম বোর্ডসভায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার নারায়ণগঞ্জ অংশের মূল অধিবাসী ক্যাটাগরিতে ২২৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কমিটি বৈধ হিসেবে বিবেচনা করে ১০০ জনকে। এ ছাড়া গাজীপুর অংশে মূল অধিবাসী ক্যাটাগরিতে এক হাজার ৮৬০ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৮৯৯ জন এবং গাজীপুর সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাটাগরিতে এক হাজার ৪৭০ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৪৪১ জনকে বৈধ হিসেবে বিবেচনা করে প্রত্যেককে একটি করে তিন কাঠা আয়তনের প্লটের সাময়িক বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

গতকালের এই প্লট বরাদ্দ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপি।

উল্লেখ্য, রাজধানী শহর ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলানো ও এর বাসযোগ্যতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ শুরু করে। প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৯৬-০৯ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ছয় হাজার ২২৭.৩৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এই অধিগ্রহণের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ আশ্রয়হীন/ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আশ্রয়হীন/ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষ তাদের যথাযোগ্য পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, যা এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় অধিবাসীদের সংঘর্ষে একজন প্রাণ হারায়। ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে।

সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান এবং তিনি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে আন্দোলনকারীদের উপযুক্ত পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন।



সাতদিনের সেরা