kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

এটিজেএফবির ওয়েবিনারে প্রতিমন্ত্রী

মহামারিতে নীতি-সহায়তা পাবে এভিয়েশন খাত

টিকিটের উচ্চমূল্য মনিটরিং করা হচ্ছে : সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের এভিয়েশন খাত। মহামারির প্রথম ঢেউয়ের ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই দ্বিতীয় ঢেউ এই খাতে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে। করোনায় সীমিত আকারে ফ্লাইট চলায় সক্ষমতার চেয়ে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ৫৪ এবং আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ৭০ শতাংশ কম যাত্রী পরিবহন করতে হচ্ছে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোকে। এমন পরিস্থিতিতে এভিয়েশন খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার প্রণোদনাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

‘মহামারিতে বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর : চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) গতকাল শনিবার এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

এটিজেএফবি সভাপতি নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, নভোএয়ারের এমডি মফিজুর রহমান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদুল আলম, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সভাপতি মনসুর আহমেদ কালাম, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) সভাপতি মো. রাফিউজ্জামান।

ভার্চুয়াল আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন এটিজেএফবির সাধারণ সম্পাদক তানজিম আনোয়ার এবং ধন্যবাদ ও সমাপনী বক্তব্য দেন এটিজেএফবি সহসভাপতি মাসুদ রুমী।

এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) মহাসচিব ও নভোএয়ারের এমডি মফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে আটটি বেসরকারি এয়ারলাইনস ব্যবসা শুরু করেছিল। পাঁচটি এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। টিকে থাকা তিনটির মধ্যে রিজেন্ট এয়ারলাইনস ফ্লাইট স্থগিত করেছে, দুটি চলছে। যেসব কারণে এয়ারলাইনসগুলো বন্ধ হয়েছে সেই কারণগুলো এখনো বিরাজমান। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়েছে করোনাভাইরাস। করোনার প্রথম ঢেউয়ে আমরা মন্ত্রণালয় ও বেবিচক থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছি। আশা করছি, এবারের সংকটে তারা প্রতিটি স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বসে কার কী দরকার, সে বিষয়ে আলোচনা করবে।’

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থেই এভিয়েশন খাতকে বাঁচিয়ে রাখার বিকল্প নেই। করোনায় আমরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। এর মাঝে জেট ফুয়েলের দাম অভ্যন্তরীণে ৪৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ৩৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা করা হয়েছে। সব চার্জও বেশি। অথচ করোনা-পরবর্তী সময়ে শুধু ডমেস্টিকে আমরা ৫০ লাখ টাকার প্রণোদনা পেয়েছি। আমাদের টিকে থাকতে হলে আরো সহযোগিতা দরকার।’

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পর্ষদের চেয়ারম্যান ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘করোনার ধাক্কায় সারা পৃথিবীর এয়ারলাইনসগুলোই বিপর্যস্ত। সেখানে বাংলাদেশের তিনটি এয়ারলাইনস আমাদের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো বন্ধ হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করলে আগামীর সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা করোনার প্রথম ঢেউকে আকস্মিকভাবে দেখিনি। প্রস্তুতি ছিল। আমরা প্রণোদনা দিয়েছি, নানা চার্জ মওকুফ করেছি, বসে থাকা যাত্রীবাহী ফ্লাইটে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছি।’

বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, এভিয়েশন খাতের ব্যাপারে সরকারপ্রধান খুব আন্তরিক। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায়ও সরকার এই খাতের উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে। প্রাইভেট এয়ারলাইনসগুলো যাতে সেবা চালু রাখতে পারে সে জন্য তাদের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘দেশের এভিয়েশন খাতেও করোনা মহামারি প্রবল আঘাত হেনেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা এই খাতের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো টিকে থাকতে প্রণোদনাসহ যত ধরনের সহায়তা দরকার দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য মনিটরিং করা হচ্ছে।’



সাতদিনের সেরা