kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিমত

খালেদা দেশে না থাকলে শক্তিশালী হবে বিএনপির অপরাজনীতি

তৈমুর ফারুক তুষার   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রায় চার দশক ধরে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিতে চায় পরিবার ও দল। তিনি দেশে না থাকলে সেটা বিএনপির রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেই আলোচনা চলছে। বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন ধারায় গড়াতে পারে, সে ব্যাপারে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা কী মনোভাব পোষণ করছেন, সেটাও জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা ও সরকারের মন্ত্রী বিএনপি নেত্রীর রোগমুক্তি কামনা করে বলেছেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে সরকার খুবই আন্তরিক। দেশে তাঁর অনুপস্থিতি বিএনপির অপরাজনীতির ধারাকে আরো শক্তিশালী করবে বলে তাঁরা মনে করেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিএনপির দ্বিতীয় প্রজন্মের উত্তরাধিকার হিসেবে খালেদাপুত্র তারেক রহমান রাজনীতিতে যুক্ত হন। সে সময় থেকেই দলটি অনেকটা বেপরোয়া ও প্রকাশ্যে দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, প্রতিপক্ষকে খুনের রাজনীতির ধারায় সম্পৃক্ত হয়। সে ধারাতেই এখনো চলছে। এর পরও এখনো বিএনপিতে খানিকটা গণতন্ত্রমনা যে দু-চারজন নেতা রয়েছেন, খালেদার অনুপস্থিতিতে তাঁরা একেবারেই কোণঠাসা হয়ে পড়বেন।

গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় কালের কণ্ঠ’র। তাঁরা বলেন, খালেদা জিয়া একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালে বিএনপির দায়িত্ব নেন। এরপর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ভূমিকা রাখেন। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া গোলাম আযমের মতো চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন। কিন্তু এর পরও খালেদা ও তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যে অপরাজনীতিতে যুক্ত হননি। তাঁরা খানিকটা গণতান্ত্রিক আবরণ রেখে রাজনীতি করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। তখন থেকে তিনি ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। আলোচিত হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক তাঁর নানা দুর্নীতির কথা বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় জঙ্গিবাদের উত্থান, বিভিন্ন স্থানে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা, দফায় দফায় বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়। এসব ঘটনা দেশের রাজনীতিতে দুই বৃহৎ শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে অনতিক্রম্য এক দূরত্ব সৃষ্টি করে। খালেদা জিয়া দেশে না থাকলে তাঁকে কেন্দ্র করে দলের গণতন্ত্রমনা নেতাদের যে তৎপরতা, সেটায় ভাটা পড়তে পারে। কারণ লন্ডনে থাকলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে চলে যাবে দলের নেতৃত্ব। এমন কিছু হলে বিএনপিতে অপরাজনীতির ধারা আরো শক্তিশালী হবে, যা আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব ঘোচানোর সম্ভাবনা আরো কমিয়ে দেবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, বিএনপিতে কিছু পুরনো নেতা আছেন, যাঁরা অপরাজনীতি করতে চান না। হত্যা, খুনের পথে চলতে চান না। তাঁদের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বন্দ্ব আছে। খালেদার অনুপস্থিতিতে তাঁরা আর বিএনপি করতে পারবেন বলে মনে হয় না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খালেদা জিয়া একটি বড় দলের নেতা। মানবিক কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমরা চাই উনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন। খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে ফিরে এসে বিএনপিকে একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে পরিচালনা করবেন, সরকারের ভুলভ্রান্তি ধরিয়ে দেবেন, এটাই আমাদের চাওয়া।’

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি, বিএনপির দলীয় রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অনেক ভূমিকা আছে। উনার অনুপস্থিতি এ ঘরানার মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলবে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘এত দিন বিএনপি ইস্যু, কর্মসূচি ও লক্ষ্য নির্ধারণ সংকটে ভুগেছে। তাদের নেত্রীর অনুপস্থিতিতে নতুন করে সংকট যোগ হবে।’

দলটির আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘তারেক যে রাজনীতি করেন, তা হলো ষড়যন্ত্রের রাজনীতি, অপরাজনীতি। খালেদার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমানের বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আরো বেগবান হবে।’



সাতদিনের সেরা