kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

ক্রেতার চাপ, বিক্রেতার লক্ষ্য ক্ষতি পোষানো

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রেতার চাপ, বিক্রেতার লক্ষ্য ক্ষতি পোষানো

ঈদের কেনাকাটায় শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতার চাপ বাড়ছে। তার পরও দোকানিরা বলছেন, লাভের আশা কম। দোকান বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকু পাওয়ার জন্য ব্যবসায়ীরা রাত ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, মিরপুর ও মালিবাগ এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মার্কেটগুলোতে সারাক্ষণই ক্রেতার চাপ রয়েছে। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মাঝে এই কেনাকাটায় স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না।

নিউ মার্কেটের শাড়ি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার বলেন, ‘আগের মতো ব্যবসা হচ্ছে না। এখন সবাই একান্ত দরকারি কেনাকাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন। স্বাভাবিক সময়ে ঈদের ছুটির মাঝে বিয়েশাদির একটি পর্ব থাকে। সেই সুবাদে ঈদের সঙ্গে বিয়ের জন্যও কেনাকাটার একটি পর্ব থাকে। এবার সেই বিয়ের কেনাকাটা নেই বললেই চলে। ফলে ঈদে আমাদের যেমন ব্যবসা হওয়ার কথা তেমনটা হচ্ছে না।’

গাউছিয়া মার্কেটের দোকানি জিহাদ হোসেন বলেন, ‘কাস্টমারের চাপ আছে। কিন্তু খুব একটা লাভ করা যাচ্ছে না। আমরাও জিনিস বেচতে পারলেই বাঁচি। দুই হাজার টাকার পণ্যে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভেও ছেড়ে দিচ্ছি। কয়েক মাসের দোকান ভাড়া ও স্টাফের বেতন জমে আছে। সেগুলো এই সিজনে পরিশোধ করতে হবে।’

ঢাকা নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. আমিনুল হক শাহীন বলেন, ‘ক্রেতার চাপ মূলত সড়কে বেশি। আমাদের নিউ মার্কেট এলাকাকে কেন্দ্র করে ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০টি মার্কেট আছে। তাই এখানে মানুষের চাপটা একটু বেশি দেখা যায়। এই নিউ মার্কেটে ৫৪১টি দোকান আছে। তাদের স্টাফদের বেতন-বোনাস, দোকান ভাড়া ও অন্যান্য খরচ তুলে খুব একটা লাভ থাকছে না। লাভ করার চেয়ে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠাই এখন মূল লক্ষ্য।’

স্বাস্থ্যবিধি মানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সারাক্ষণ মাইকিং করছি, তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। আর বাস্তবিক অর্থে সামাজিক দূরত্ব নিয়ন্ত্রণ করাটা খুবই কঠিন। তবে দোকানিরা ঠিকই মাস্ক পরে থাকেন। মার্কেটে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়িয়ে দিলে একসঙ্গে ক্রেতার চাপ কমে যেত।’

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে মুক্তবাংলা মার্কেট, বেঙ্গল মার্কেট, মিরপুর নিউ মার্কেট ও মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড়। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত রাজধানীবাসী। পছন্দসই জিনিস কিনতে কেউ কেউ আবার ছুটছে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে। অবশেষে পছন্দের পণ্য সাধ্যের দামে পেয়ে গেলে ক্রেতার মুখে হাসি ফুটছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিক্রেতারা খুশি হতে পারছে না।

অ্যাপেক্স জুতা বিক্রেতা রায়হান বললেন, ‘আগের বছরের ঈদে দোকান বন্ধ থাকার ক্ষতি পোষানো সম্ভব নয়। তবে মার্কেট আরেকটু বেশি সময় ধরে খোলা থাকলে আমাদের সুবিধা হতো। একসঙ্গে ক্রেতার চাপও কমে যেত।’

একই কথা বললেন মৌচাক মার্কেটের পোশাকের দোকানি মিজান উদ্দিন। এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘করোনার কারণে দোকান খোলা ও বন্ধের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলে এই অল্প সময়ের মধ্যে দোকানে ক্রেতার খুব ভিড় হচ্ছে। সময়টা আরো বাড়ানো হলে সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধিগুলো আরো ভালো করে মানা যেত।’ বেচাবিক্রিতে সন্তুষ্ট কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরো বছরে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা তো আর একবারে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। বিক্রি বাড়লেও খরচও অনেক জমে আছে। ফলে লাভ তেমন হচ্ছে না।’

ঈদে জামা-কাপড়, শাড়ি, মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইসের বিক্রি বাড়লেও অলংকারের বিক্রি তেমন একটা বাড়েনি বলে জানালেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। নূরে আলম নামে এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলেন, ক্রেতা আসে তবে কম। বিক্রির অবস্থা আগের ঈদগুলোর মতো জমজমাট না।



সাতদিনের সেরা