kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

সাত মাস পর রহস্য উন্মোচন

চট্টগ্রামে জোড়া খুন

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে এক কাভার্ড ভ্যানচালক ও তাঁর সহকারীকে খুনের সাত মাস পর হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। জোড়া খুনের এই মামলায় নতুন করে দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানায়, কাভার্ড ভ্যানের মালামাল চুরি করতেই ওই দুইজনকে হত্যা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসেন মো. রেজার আদালতে গতকাল শনিবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন হাওলাদার (৩০)। গত শুক্রবার বিকেলে তাঁর আরেক সহযোগী আবু সুফিয়ান সুজনসহ (২১) গ্রেপ্তার হন মিরাজ। গতকাল বিকেলে তাঁদের দুজনকে আদালতে হাজির করার পর তাঁরা দুজন একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর মধ্য দিয়ে সাত মাস পর জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচিত হলো।

গত বছর ২ অক্টোবর রাতে এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত উঠে আসে দুই আসামির জবানবন্দিতে। তাঁরা হলেন—পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া থানার হরিণপালা গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে মো. মিরাজ হোসেন হাওলাদার ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানার বিশ্বকলোনি কাঁচাবাজার এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে মো. আবু সুফিয়ান সুজন। এই মামলার আরেক আসামি আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. রবিউল হোসেন বাবু (২১) গ্রেপ্তার হয়ে আগে থেকেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পশ্চিম) পরিদর্শক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জোড়া খুনের ঘটনায় একটি লাশ ফেলা হয়েছিল জোরারগঞ্জ থানা এলাকায়। অন্যটি হালিশহর থানা এলাকায়। পৃথক দুই স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে জোরারগঞ্জ থানার মামলাটি তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আর হালিশহর থানার মামলাটি আমি তদন্ত করেছি। তদন্ত পর্যায়ে জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচন করে দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনায় জড়িত আরেক আসামি আগেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিল। তাকেও আদালতের নির্দেশনায় দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

দুই আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দির তথ্যানুযায়ী, মিরাজ, বাবু ও সুজন তিনজনই বন্ধু, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক এবং অস্থায়ী চালক। হাতে টাকা না থাকায় তারা গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে পরিকল্পনা করে পরিচিত কাভার্ড ভ্যানচালকের গাড়ি ও মালামাল ছিনতাইয়ের। চালককে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পরিকল্পনা নেন তাঁরা। এই পরিকল্পনার পর নিউ মার্কেট এলাকা থেকে বাবু ও সুজন দুটি ছোরা কেনেন। এরই মধ্যে ২ অক্টোবর মিরাজ মোবাইলে কথা বলেন পূর্বপরিচিত কাভার্ড ভ্যানচালক রিয়াদ হোসেন সাগরের সঙ্গে। সাগর জানান, ওই রাতে তিনি মেশিনারিজ নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। এই তথ্য জেনে মিরাজ নিজেও ঢাকা যাওয়ার কথা জানান সাগরকে। পরে রাত সন্ধ্যা ৭টায় মিরাজ, বাবু ও সুজন তিনজন আকবরশাহ থানা এলাকা থেকে ঢাকামুখী সাগরের কাভার্ড ভ্যানে (চট্ট মেট্রো-ট-১১-৮৮১২) ওঠেন। ওই গাড়িতে হেলাপার ছিলেন মোহাম্মদ আলী।

গাড়িতে ওঠার পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিরাজ চালক সাগরকে নাশতা খাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু সাগর নাশতা খেতে রাজি হননি। মিরসরাই নিজামপুর কমলদা ড্রাইভার হোটেলে গিয়ে রাতের ভাত খাবেন বলে জানান এবং ওই হোটেলে গিয়ে গাড়ি থামান। হোটেলে মিরাজ ছাড়া অন্য চারজন চালক সাগর, হেলপার মোহাম্মদ আলী, হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাবু ও সুজন ভাত খান। এর মধ্যে তিনজন পরিকল্পনা করেন ভাত খাওয়ার পর গাড়ি চালাবেন মিরাজ। আর চালক ও হেলপারকে গলা কেটে হত্যা করা হবে।

এমন পরিকল্পনায় গাড়ি চালানো শুরু করেন মিরাজ। হেলপার আলীর পাশে বসেন সুজন এবং ড্রাইভিং সিটের পেছনে হেলান দিয়ে বসেন চালক সাগর, তাঁর পাশে বসেন বাবু। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে গাড়িটি নাহার অ্যাগ্রো এলাকা পার হয়। এরই মধ্যে বাবু ও সুজন পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর ও হেলপারের গলায় ছুরি দিয়ে পোঁচ দেন। দুটি দেহ গাড়ির ভেতরে ৫-১০ মিনিট ছটফট করে নিস্তেজ হয়ে যায়। এর পর তাঁরা বারৈয়ারহাট এলাকা থেকে কাভার্ড ভ্যান ঘুরিয়ে আবার চট্টগ্রামমুখী হন। সোনাপাহাড় এলাকায় পৌঁছে হেলপার আলীর নিস্তেজ দেহ গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেন। কিন্তু পুকুরের পানিতে হেলপার দাঁড়িয়ে গেলে বাবু ফের উপর্যুপরি পোঁচ দিয়ে আলীর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আর চালক সাগরের লাশটি হালিশহর থানার লিংক রোডে সড়কের পাশে পানিতে ফেলে দেন।



সাতদিনের সেরা