kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

‘কথা না শুনলে ঈদের দিন থেকে কর্মসূচি’

ঈদের আগে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতের জন্য ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। সেই সঙ্গে শ্রমিকদের অনুদান, বেতন-বোনাস ও যানবাহন মেরামতের জন্য সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনাসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শাজাহান খান। এসব দাবি মানা না হলে সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ঈদের নামাজ শেষে নিজ নিজ এলাকার বাস ও ট্রাক টার্মিনালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, লকডাউন সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞরা মাঠের সেন্টিমেন্ট বোঝেন না; শ্রমিকদের সেন্টিমেন্ট বোঝেন না। এ জন্য শ্রমিকরা না খেয়ে মরছে। এ বিষয়ে আমরা বিশেষজ্ঞ। গণপরিবহন ও শ্রমিকদের বিষয়ে সরকারের বরং আমাদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শাজাহান খান বলেন, ‘আমরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম। তিনি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তবে এখনো কোনো আশ্বাস পাইনি। সরকার আমাদের কথা না শুনলে আসন্ন ঈদের দিন নামাজ শেষে সারা দেশের পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা  নিজ নিজ এলাকায় বাস ও ট্রাক টার্মিনালে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা, মহাসচিব খন্দকার এনায়েতউল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি হলো—১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ প্রদান; ২. (ক) লকডাউনের কারণে কর্মহীন পরিবহন শ্রমিকদের ঈদের আগে আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা দিতে হবে এবং (খ) যানবাহন মেরামত, পরিবহন শ্রমিকদের বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস দেওয়ার জন্য পরিবহন মালিকদের নামমাত্র সুদে ও সহজ শর্তে পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিতে হবে; ৩. সারা দেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ঈদের আগে ও পরে ১০ টাকায় খোলাবাজারে চাল বিক্রির ব্যবস্থা করা; ৪. ঋণ করে পরিবহন খাতে বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফসহ কিস্তি ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত স্থগিত এবং শতকরা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে ‘ক্লাসিফায়েড’ ঋণ ‘আনক্লাসিফায়েড’ করা এবং ৫. লকডাউনের কারণে গাড়ির ট্যাক্স-টোকেন, রুট পারমিট ফি, আয়কর, ড্রাইভিং লাইসেন্স ফিসহ সব ধরনের ফি, কর ও জরিমানা মওকুফ করে কাগজপত্র হালনাগাদ করার সুযোগ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা।