kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

চাহিদার শীর্ষে ঢাকাই জামদানি

ফারজানা লাবনী   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাহিদার শীর্ষে ঢাকাই জামদানি

ঈদ বাজারে বিপুল চাহিদার কারণে ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে জর্জেট, বেনারসি, কাতানসহ অন্য শাড়ি আমদানি করেন। কিন্তু গত বছর থেকে করোনা মহামারি অব্যাহত থাকায় আমদানি বন্ধ রয়েছে। এসব শাড়ির বাইরে ঈদ বাজারে দেশি তাঁত, সিল্ক ও জামদানি শাড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। করোনার কারণে এবার ঈদ বাজারের চিত্র অন্যরকম। সীমান্ত দিয়ে আগের মতো ভারত থেকে শাড়ি আনতে না পারায় ঈদ বাজারে ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে জামদানি শাড়ির কদর। সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব শাড়ির দোকানে ঢাকাই জামদানির চাহিদা অনেক বেড়েছে। সব বয়সী নারীই বিভিন্ন দোকান ঘুরে কিনছেন পছন্দের জামদানি।

বনানী আড়ং থেকে ২৮ হাজার টাকায় ঢাকাই জামদানি শাড়ি কিনেছেন চাকরিজীবী রত্না হায়দার। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘করোনার আগের ঈদে পিংক সিটি থেকে ভারতীয় জর্জেট শাড়ি কিনেছিলাম। গত ঈদে করোনার কারণে বের হতে পারিনি বলে কেনা হয়নি। এবার বের হতে পারলেও করোনার কারণে ঈদ বাজারে আমদানি করা শাড়ি কম। দেশি শাড়ি জামদানির ঐতিহ্য রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে আভিজাত্যও। ঈদের মতো বড় আয়োজনে জামদানি শাড়ি পরতে পারা আনন্দের। আমার দুই বোনকেও ঢাকাই জামদানি উপহার দিয়েছি।’        

রাজধানীর বেইলি রোড, মিরপুর বেনারসি পল্লীর বিভিন্ন শাড়ির দোকান, গুলশানের পিংক সিটি, বনানীর আড়ংয়ের শোরুম, ধানমণ্ডির জামদানি হাউস, রাপা প্লাজা, অঞ্জনসের বিভিন্ন শোরুমসহ অন্য শাড়ির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, এবারের ঈদ বাজারে ঢাকাই জামদানি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। সুতার সূক্ষ্ম কাজ এবং বুননের ওপর নির্ভর করছে দাম।

জামদানি শাড়ির জমিনে বিচিত্র কারুকাজ করা এসব শাড়ির নামও বাহারি। তেরছা, জলপাড়, পান্নাহাজার, করোলা, দুবলাজাল, সাবুরগা, বলিহার, শাপলাফুল, আঙ্গুরলতা, ময়ূরপ্যাঁচপাড়, বাঘনলি, কলমিলতা, চন্দ্রপাড়, ঝুমকা, বুটিদার, ঝালর, ময়ূরপাখা, পুইলতা, কল্কাপাড়, কচুপাতা, প্রজাপতি, জুঁইবুটি, হংসবলাকা, শবনম, ঝুমকা ও জবাফুল। আরো কত নামের জামদানি যে রয়েছে! গুণগতমান আর নজরকাড়া নকশার কারণে সব বয়সী নারীর কাছেই জামদানির চাহিদা রয়েছে।

মিরপুর বেনারসি পল্লীর পালকি শাড়ি দোকানের বিক্রেতা রমজান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদ সামনে রেখে দেশি-বিদেশি অনেক ধরনের শাড়ি বিক্রি করি। এবার করোনার কারণে বিদেশি শাড়ি নেই বললেই চলে। তার পরও দোকানে কাতান, বেনারসি, জর্জেট, সুতি, তাঁত, সিল্কসহ অনেক শাড়ি থাকলেও এবার চাহিদার শীর্ষে জামদানি শাড়ি। আসলে জামদানি শাড়ির চাহিদা সব সময় সবার ওপরেই থাকে। আমরা এবার দোকানে অনেক ধরনের জামদানি তুলেছি। ঈদ বাজারে এসব শাড়ির চাহিদাও যথেষ্ট ভালো।’

দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর সংগঠন ফ্যাশন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এবং সাদাকালো ফ্যাশন হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহারুল হক আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে এবার ব্যবসায়ীরা চাহিদা মতো শাড়ি আমদানি করতে পারেননি। কিন্তু দোকান তো খালি রাখা যায় না। ঈদে খানিকটা জাঁকজমকপূর্ণ শাড়ির চাহিদা থাকে। এবার সেই চাহিদা মেটাতে ঢাকাই জামদানির পর্যাপ্ত সংগ্রহ রাখা হয়েছে। ঢাকাই জামদানির নকশার কাজও খুব সুন্দর। ঈদ বাজারে এসব শাড়ি বিক্রিও হচ্ছে বেশ।



সাতদিনের সেরা