kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

মাস্ক নিয়ে সরকারের আট নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা মহামারি মোকাবেলার অংশ হিসেবে মাস্ক পরা নিয়ে আট দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সরকারের নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—কয়েক স্তরবিশিষ্ট সার্জিকাল মাস্ক ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো, যা এককালীন ব্যবহার করতে হবে। অনেকে মাস্ক পরার সময় নাক খোলা রেখে শুধু মুখ ঢেকে রাখে, যা সঠিক নয়। বরং ওপরের ধাতব (মেটাল) অংশকে নাকের সঙ্গে চেপে ও নিচের অংশকে থুতনির নিচে নিয়ে উভয়ই ঢেকে রাখতে হবে। কেউ কেউ মাস্ক থুতনি পর্যন্ত খুলে রেখে কথাবার্তা বলে। এটাও ঠিক নয়। এতে লেগে থাকা জীবাণু সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। সার্জিকাল মাস্ক ঘরে রেখে দিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। একটি মাস্ক সর্বোচ্চ এক দিন ব্যবহার করে সেটাকে ধ্বংস করে দিতে হবে। যেসব স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা মুশকিল, যেমন—গণপরিবহন ও বাজার বা দোকানপাট, সেসব জায়গায় মাস্ক পরতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় ও হাত জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। সাধারণ কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারের পর অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে। অপরিষ্কার মাস্ক পরলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ব্যবহার করা মাস্ক জীবাণুমুক্ত করতে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মাস্ক সাবান পানিতে ভিজিয়ে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। ভেজা মাস্ক পরা উচিত নয়। এতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বাইরে গেলে দুটি মাস্ক ব্যাগে রাখা দরকার। মুখে বাঁধা মাস্ক কোনো কারণে নষ্ট হলে বা ভিজে গেলে অন্যটি ব্যবহার করতে হবে।

ঈদের আগে বিল পরিশোধে সব মন্ত্রণালয়কে মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশ

করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা স্থবির। যে কারণে শ্রমজীবী মানুষের হাতে টাকার জোগান কম। এরই মধ্যে কড়া নাড়ছে রোজার ঈদ। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ঠিকাদারদের পাওনা পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি পাঠিয়ে বিধি মোতাবেক পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার উপসচিব রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর রাজস্ব বা উন্নয়ন খাতে ক্রয়াদেশ বা কার্যাদেশের বিপরীতে সম্পাদিত কাজ বা ক্রয়ের প্রাপ্য বিলগুলো ঈদের ছুটির আগে বিধি মোতাবেক পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা বিল পরিশোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার কামাল হোসেন তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ঈদের আগে সরকারি বিল পাওয়ার একটা রেওয়াজ চালু ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সময় অফিস বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বলায় ভালো হয়েছে। এতে বিশেষ করে ছোট ঠিকাদাররা বেশি উপকৃত হবেন।

এদিকে সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় এই নির্দেশ কতটা কাজে আসবে তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখন সরকারি অফিস বন্ধ। ঈদের আগে কিছু দপ্তর বিল পরিশোধের চেষ্টা করলেও সব সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করতে পারবে কি না সন্দেহ আছে। জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত অফিসের কর্মকর্তাদের সবাই অফিসে আসেন না। আর্থিক বিল তৈরি ও হিসাব-নিকাশের সঙ্গে একটি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা যুক্ত থাকেন। এ কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চিঠি দেওয়া হলেও ঠিকাদাররা তাঁদের বিল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

সরকারের নানা প্রকল্প ও উন্নয়ন খাতে প্রায় ৬০-৭০ হাজারের মতো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান কাজের অগ্রগতির হিসাব ধরে সরকারের কাছ থেকে বিল পেয়ে থাকে। এর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ছোট ও মাঝারি ঠিকাদাররা করোনাকালে বড় সংকটের মধ্যে আছে।