kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

রাজধানীতে চেনা যানজট স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

♦ গণপরিবহন চালুর প্রথম দিন
♦ যাত্রীরা বলছে, পকেটের টাকা তো বাঁচল

সজিব ঘোষ   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রাজধানীতে চেনা যানজট স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

কয়েক সপ্তাহ পর রাজধানীর সড়কে ফিরেছে গণপরিবহন। সেই সঙ্গে ফিরেছে চিরচেনা যানজটও। গতকাল তেজগাঁও এলাকায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

এক মাস পর রাজধানীসহ দেশের সব জেলার সড়কে ফিরেছে গণপরিবহন। আর গণপরিবহনের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর সড়কে ফিরেছে চিরচেনা যানজটও। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি অনেকাংশেই উপেক্ষিতই ছিল। তার পরও যাত্রীদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি। তারা বলছে, পকেটের টাকা তো বাঁচল।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণপরিবহন খুলে দেওয়ার প্রথম দিন অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ ভাড়া আদায় করা হলেও বাসে ওঠার সময় ছিল না যাত্রীদের হাত জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা। বহু বাসে দাঁড়া করিয়েও যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। ঘোড়ার গাড়ি ও হিউম্যানহলারের (লেগুনা) মতো যানেও পাঁচজনের আসনে চারজন বসিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। আর ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকগুলোতে শতভাগ আসনে যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল লকডাউন শুরুর পর ব্যক্তিগত পরিবহন ও গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। যদিও ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঠিকই চলেছে। অনেক অফিসও খোলা ছিল। বন্ধ ছিল শুধু গণপরিবহন। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়। সম্প্রতি দোকানপাট, শপিং মল ও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করা হয়। লকডাউনের সময় আরেক দফা বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন চালুর দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ করেন সড়ক পরিবহন শ্রমিকরা। পরে পাঁচটি নির্দেশনা দিয়ে গতকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন চলাচলের অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনায় বলা হয়, আন্ত জেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। কোনোভাবেই মোট আসনের অর্ধেকের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। যাত্রার শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। চালক, অন্যান্য শ্রমিক, কর্মচারী ও যাত্রীদের মাস্ক পরা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

গতকাল গণপরিবহন খুলে দেওয়ার প্রথম দিন রাস্তায় মানুষের চলাচল বেড়েছে, কিন্তু নির্দেশনা অনুযায়ী বিধি-নিষেধ অনেকাংশেই মানা হয়নি।

রাজধানীর গুলিস্তান, আজিমপুর, নিউ মার্কেট, পল্টন, মগবাজার, মালিবাগ, বাড্ডা, সদরঘাট, রামপুরা, মহাখালী, ফার্মগেট ও মোহাম্মদপুর এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকালের দিকে বাসে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকলেও দুপুরের দিকে সেই চাপ কিছুটা কমে আসে। বিশেষ করে অফিসে যাওয়ার জন্য সকালে যারা রাস্তায় বের হয়েছে, তারাই বাসের জন্য অপেক্ষা করেছে। বিকেলের পর থেকে সেই চাপ আবারও বাড়তে থাকে, সঙ্গে যানজটও। নিউ মার্কেট ও গুলিস্তানের মতো মার্কেটমুখী সড়কে গাড়ি ও যাত্রীর চাপ সারা দিনই ছিল সমান তালে।

গণপরিবহনে বেশির ভাগ যাত্রীর মুখে মাস্ক থাকলেও চালক ও তাঁদের সহযোগীর মুখে মাস্ক কমই দেখা গেছে। পাশাপাশি সব আসনে যাত্রী পরিবহনের ঘটনাও ঘটেছে। তদারকির কেউ ছিল না।

সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের বাসটি যাচ্ছিল গাজীপুর। দুপুর ১টায় ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজটে আটকে থাকা বাসে বেশ কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হেল্পার জালাল বলেন, ‘দুই সিটে এক যাত্রী বসানোর কথা, ওইডা ঠিক আছেনি দেহেন। সামনেই কয়েকজন নাইমা যাইব, তহন আবার এরা বইব। এডারে দাঁড়াইয়া যাত্রী নেওয়া কয় না।’

ভিআইপি ২৭ পরিবহনের বাসচালক রহমান মিয়া বলেন, ‘যত যা-ই কন, সব কথা অক্ষরে অক্ষরে মানা তো মুশকিল। বাসে ওঠার সময় বা নামার পরে যাত্রীদের দূরত্ব কই থাকে।’ হাতে জীবাণুনাশক দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকেই তো প্রথম বাস চালু হইছে। তাই সব গুছাইতে পারি নাই। কাইল থাইক্কা ব্যবস্থা থাকবে।’

অন্য দিনের তুলনায় গতকাল গণপরিবহন চলার শুরুর দিন যানজটও দীর্ঘ হয়েছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন মো. সালাউদ্দিন। প্রতিদিনের মতো গতকালও তিনি আজিমপুর থেকে বাড্ডায় কর্মস্থলে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ বাস নামবে, এটা আমি জানতাম। সে জন্য বাসা থেকে সকাল সকাল বেরিয়েছি। কিন্তু পথে পথে যানজটের যে অবস্থা দেখলাম আমার গুলশানে আসতেই দেড় ঘণ্টার বেশি লেগে গেছে।’

সড়কে দীর্ঘ যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়ার পরও খুশি অনেক যাত্রী। ফার্মগেটে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা শিহাব আহাম্মেদ বলেন, ‘যানজট প্রতিদিনই থাকে। আজকে না হয় একটু বেশিই থাকল। তার চেয়ে বড় কথা হলো পকেটের টাকা বাঁচল। এই কয় দিন রীতিমতো সিএনজিওয়ালার পায়ে ধরে ভাড়া কমাইতে হইছে।’

আরেক যাত্রী সাইফুল্লাহ রুমান বলেন, ‘করোনা তো মনে হয় না রাতারাতি যাবে। এখন কেউ যদি এত মৃত্যুর খবর শুনেও সামান্য মাস্ক না পরে তাইলে তারে কিভাবে বোঝাবেন? যে যার মতো বোঝা উচিত। প্রত্যেকের অন্তত নিজের সুরক্ষার কথা ভাবা উচিত। আমি নিজে নিরাপদে চলার চেষ্টা করি। যেহেতু বাসা থেকে বের হতেই হবে, তাই বাস চালু হওয়ায় আমি খুশি।’