kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

আদালতের সময় নষ্ট জরিমানা আইনজীবীকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করে লকডাউন চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দাখিল করে শুনানির জন্য আদালতে উপস্থিত না থাকায় অ্যাডভোকেট ড. ইউনুছ আলী আকন্দকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা (কস্ট) করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য তাঁকে এই জরিমানা করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, ‘কোর্ট-কাছারি নিয়ে ফাজলামো নাকি? উনি মামলা করেই মিডিয়ায় বলে দেন মামলা করা হয়েছে। কিন্তু শুনানির দিন উনি আর উপস্থিত থাকেন না। কয়েক দিন এই রিটটি কার্যতালিকায় এলো। কিন্তু উনি অনুপস্থিত। তাই তাঁকে কস্ট দেওয়া হলো ১০ হাজার টাকা।’

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দিয়েছেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জরিমানা কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করতে আদালতে মৌখিকভাবে আবেদন জানান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার জন্য মৌখিক আবেদন জানান। আদেশের আগে ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খানের বক্তব্য শুনেন আদালত।

জরুরি অবস্থা জারি করা ব্যতীত লকডাউন দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৫ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। রিট আবেদনে চলমান লকডাউনের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। একই সঙ্গে আর যাতে লকডাউন দেওয়া না হয়, সে জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়। এই রিট আবেদনটি শুনানির জন্য গত ২ মে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় থাকলেও আদালত রিট আবেদনকারীর আইনজীবীকে কয়েক দফা খুঁজলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে আদালত ওই আইনজীবীকে বলেন, শুনানির সময় আপনাকে পাওয়া গেল না। এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে ৪ মে।

 

এরপর ৪ মে মামলাটি কার্যতালিকার এক নম্বরে থাকলেও ইউনুছ আলী আকন্দ শুনানির জন্য উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে আদালত ‘নট টুডে’ বলে আদেশ দেন। এ অবস্থায় গতকাল বুধবারের কার্যতালিকার এক নম্বরে ছিল মামলাটি। গতকালও ওই আইনজীবী আদালতে যুক্ত ছিলেন না। আদালত শুনানির জন্য আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দকে খুঁজলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ সময় আদালতে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে চান। তাঁর মতামত নেওয়ার পর ইউনুছ আলী আকন্দকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদেশ দেন। এ আদেশের পর যুক্ত থাকা আরেক আইনজীবী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জরিমানা ক্ষমা করে ইউনুছ আলীকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেওয়ার মত দেন। আদালত ইউনুছ আলী আকন্দের অতীতের কর্মকাণ্ড তুলে ধরলে ওই আইনজীবী জরিমানা কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করার অনুরোধ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিরোধিতা করে বলেন, তাঁকে (ইউনুছ আলী আকন্দ) ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা উচিত।

এর আগেও একই কারণে একাধিক আদালত থেকে এ আইনজীবীকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়। আদালত অবমাননার দায়ে আপিল বিভাগ গত বছর এ আইনজীবীকে তিন মাস সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। ফলে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দকে তিন মাস আইন পেশা থেকে বিরত থাকতে হয়।



সাতদিনের সেরা