kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

শিশুসহ তিন ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিনাজপুরের হাকিমপুরে শিশু ও চাঁদপুরে তরুণীকে (গৃহকর্মী) ধর্ষণ এবং ফরিদপুরের সালথায় ধর্ষণে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হাকিমপুর উপজেলার হিলি বিজিবি ক্যাম্পের সামনে থেকে গতকাল বুধবার সকালে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামকে (২৫) গ্রেপ্তার করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেলাল হোসেন। রবিউল উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে। গত ২০ এপ্রিলের ঘটনায় পরের দিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী শিশুটির (১০) বাবা।

সালথায় ধর্ষণে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া এবং তা দুই লাখ টাকায় মীমাংসার ঘটনায় গত সোমবার রাতে থানায় ১০ জনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী। পরে রাতেই ঘটনাটি মীমাংসা করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীদের অন্যতম আসামি মনোয়ার হোসেন নান্নুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি ধর্ষণে অভিযুক্ত ফেলা মাতুব্বরের বাড়ি উপজেলার নারানদিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় সোমবার কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি চাই। যারা ঘটনাটি জোর করে মীমাংসা করেছিল তাদেরও বিচার চাই।’

সালথা থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ফেলা মাতুব্বরের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে ফেলা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এতে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এদিকে ফেলা কয়েক মাস আগে বিদেশে চলে যান।

চাঁদপুরে মা-বাবার অনুপস্থিতিতে বাসায় একা পেয়ে গৃহকর্মীকে একাধিকবার ধর্ষণে অভিযুক্ত আমজাদ মাহমুদ নিলয়কে (২১) গত মঙ্গলবার রাতে ভোলা থেকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। গতকাল দুপুরে তাঁকে চাঁদপুরের বিচারিক হাকিমের আদালতে নেওয়া হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। নিলয় রাজধানী ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন।

চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ ও চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে পরিবারটির তিনজনের (নিলয় ও তাঁর মা-বাবা) বিরুদ্ধেই মামলা নেওয়া হয়। পরে শহরের ওয়্যারলেস এলাকার বাসা থেকে নিলয়ের মা শাহনাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। নিলয়ের বাবা আব্দুল মাজেদকেও গ্রেপ্তার করা হবে। গৃহকর্মীকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষা শেষে চট্টগ্রামে সমাজসেবা বিভাগের শেল্টার হোমে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মিটার টেস্টিং এবং বিলিং সহকারী পদে কর্মরত আব্দুল মাজেদ ও শাহনাজ বেগম। তাঁদের বাড়ি ভোলার দৌলতখানে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর এবং চাঁদপুর ও হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি]



সাতদিনের সেরা