kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

হেফাজতের সব নাশকতার তদন্ত চলছে একযোগে

কেন্দ্রীয় নেতা নোমান গ্রেপ্তার কক্সবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হেফাজতের সব নাশকতার তদন্ত চলছে একযোগে

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ হেফাজতে ইসলামের সব নাশকতার ঘটনার একযোগে তদন্ত চলছে। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে শিগগরিই ২০১৩ সালের মামলার তদন্ত শেষ হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নাশকতার মামলাগুলোরও তদন্ত চলছে। গতকাল বুধবার হেফাজতে ইসলামের মামলাগুলোর তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেখল এলাকায়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন,  ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডব অনেক বড় ঘটনা। তদন্তে তাই সময় লাগছে। অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে হচ্ছে। মামলার তদন্ত শেষ করতে না পারার আরেকটি কারণ হচ্ছে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে দোষী সাব্যস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা।’

নিজ কার্যালয়ে এ কে এম হাফিজ আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে বাইতুল মোকাররমে ব্যাপক নাশকতা হয়। সেটাকে পুঁজি করে গুজব ছড়িয়ে চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, সিলেটসহ বেশ কয়েকটি জেলায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাণ্ডবে যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁদের শনাক্ত করা হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যুক্তিতর্ক চলছে, সারা দেশে কিভাবে জায়গায় জায়গায় আগুন দেওয়াসহ তাণ্ডব চলেছে, তা সবাই দেখেছে। যাঁরা যাঁরা নাশকতায় জড়িত ছিলেন, উসকানি দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

২০১৩ সালের ৫৩টি মামলার মধ্যে এখন ৪৯টি মামলার তদন্ত করছে ডিএমপি। সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনায় হয়েছে আরো ১৪টি মামলা। এরই মধ্যে হেফাজতের ৩৪ জন কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামুনুল হকসহ কয়েকজন নেতা এখন পুলিশের রিমান্ডে আছেন। আরো কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

তিন নেতার রিমান্ড : এদিকে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ও মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীর ছয় দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমানের আদালত শুনানি শেষ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

কেন্দ্রীয় নেতা নোমান গ্রেপ্তার : চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক জানিয়েছেন, গত ২৬ মার্চ হাটহাজারীতে তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় জাকারিয়া নোমান ফয়েজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাকারিয়া নোমান ফয়েজী একসময় হাটহাজারীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। হেফাজতের গত কমিটিতে ঢুকেই তিনি প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এ পদে আগের কমিটিতে ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানী।



সাতদিনের সেরা