kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় ফের হেফাজত নেতারা

উপস্থিত ধর্ম প্রতিমন্ত্রীও, চার দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিযানে থাকা এবং সংগঠন সংস্কারের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যেই হেফাজতে ইসলামের নেতারা তৃতীয়বারের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সদ্যোবিলুপ্ত কমিটির মহাসচিব ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব নূরুল ইসলাম জেহাদীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যায়। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানও ওই বাসায় ছিলেন।রাত ৯টা ২০ মিনিটে হেফাজত নেতারা বাসায় ঢোকার পর রাত পৌনে ১২টার দিকে বের হন। পরে হেফাজত নেতারা জানান, তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নেতাদের মুক্তি ও কাওমি মাদরাসা খুলে দেওয়াসহ চারটি দাবি জানিয়েছেন।

হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তার করা শুরু হলে গত ১৯ এপ্রিল নূরুল ইসলাম জেহাদীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে দেখা করে। এরপর ২৬ এপ্রিল কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেয় হেফাজত। গত রবিবার রাতে ইসলামী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনীর নেতৃত্বে হেফাজতের আরেকটি অংশের চার নেতা মন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বৈঠক করেন। ওই নেতারা প্রয়াত আমির আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারী এবং বর্তমান নিয়ন্ত্রক জুনায়েদ বাবুনগরীবিরোধী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসভবনে ঢোকেন নূরুল ইসলাম জেহাদীসহ সাতজন নেতা। এর কিছু সময় পর আরো তিন হেফাজত নেতা ভেতরে প্রবেশ করেন। এই ১০ জনের মধ্যে বিলুপ্ত কমিটির নায়েবে আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজী, মাওলানা মামুনুল হকের ভাই বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী আছেন। বাকিরাও সদ্যোবিলুপ্ত কমিটির নেতা। রাত পৌনে ১২টার দিকে বৈঠক শেষে হেফাজত নেতারা বেরিয়ে আসেন। এ সময় নূরুল ইসলাম জেহাদী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানিয়েছি। মন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন। তিনি আশ্বাসও দিয়েছেন।’

হেফাজত নেতারা যে চারটি দাবি জানিয়েছেন এর প্রথমটি হলো হেফাজতের আলেম নেতাদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া। এরপর তাঁরা গ্রেপ্তার অভিযান বন্ধ করার দাবি করেছেন। হেফাজত নেতারা আগের আলোচনা অনুযায়ী ২০১৩ সালের মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি করেন। এ ছাড়া তাঁরা দ্রুত কাওমি মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবিও করেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার ব্যাপারে হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তাঁরা শিগগিরই রাজনৈতিক নেতাদের বাদ দিয়ে বড় কমিটি করা হবে বলে জানান। কাওমি মাদরাসা পরিচালনার ব্যবস্থা সংস্কারে হেফাজত নেতারা আন্তরিক বলেও জানান।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে ব্যাপক সহিংসতা চালায় হেফাজত। এরপর বিতর্কের মধ্যে মামুনুল হকসহ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলে গত ১৯ এপ্রিল রাতে নূরুল ইসলাম জেহাদীর নেতৃত্বে হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান। ওই বৈঠকে নেতারা হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তার বন্ধ করা ও কওমি মাদরাসা খুলে দেওয়ার দাবি জানান। একই দিন একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গেও দেখা করেন তাঁরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংগঠন থেকে বাদ দিয়ে কওমি মাদরাসা ব্যবস্থা এবং সংগঠনটির সংস্কারের শর্ত দেওয়া হয়। এর ছয় দিন পর ২৬ এপ্রিল রাতে জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বাধীন হেফাজতের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। ওই একই রাতে আবার পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপরও বিদায়ী কমিটির হাতেই সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ আছে বলে দাবি করছেন বিগত কমিটির বাইরে থাকা শফীপন্থী নেতারা। তাঁরাও পাল্টা কমিটি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত রবিবার রাতে মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী ও মাওলানা মো. আলতাফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তাঁদের অংশের নেতাদের গ্রেপ্তার বন্ধ করার দাবি জানানোর পাশাপাশি কমিটি গঠন করার ব্যাপারে আলোচনা হয়। গতকাল ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারা এক সংবাদ সম্মেলন করে মামনুলের দল খেলাফত মসজিল নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। এমন পরিস্থিতিতে হেফাজতের নেতারা ফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক মিলিত হয়েছেন।



সাতদিনের সেরা