kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

নামের মিলে কারাবাস

টেকনাফের সেই হাছিনাকে মুক্তির আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৫ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদকের এক মামলায় হাছিনা আক্তার নামের এক আসামির ছয় বছরের সাজা হয়। আর তার পরিবর্তে এক বছর চার মাস ধরে সাজা খাটছেন হাছিনা বেগম নামের আরেক নারী। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত চতুর্থ আদালতের বিচারক শরীফুল আলম ভুঁঞা তাঁকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে হাছিনা বেগমের চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেতে আর কোনো বাধা থাকল না।

ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ওমর ফুয়াদ বলেন, ‘ভাচুর্য়াল আদালতে শুনানির পর আদালত হাছিনা বেগমের মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।’ হাছিনা বেগমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ তাঁদের কাছে রক্ষিত বালাম বইয়ের ছবি পর্যালোচনা করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হাছিনা আক্তার ও হাছিনা বেগমের ছবি এক নয়। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত হাছিনা বেগমের মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।’

আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাদকের মামলায় ছয় বছরের সাজাপ্রাপ্ত হাছিনা আক্তারের পরিবর্তে ১৬ মাস ২০ দিন ধরে কারাভোগ করছেন হাছিনা বেগম। নিজ নামের একাংশ ও স্বামীর নামে মিল থাকায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। নিরপরাধ হাছিনা বেগমের বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ায়। অপরাধী হাছিনা আক্তারের বাড়িও একই থানার ইসমাইল হাজির বাড়িতে। তাঁর স্বামীর নাম হামিদ হোসেন।

হাছিনা আক্তার ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কর্ণফুলী থানার পুলিশের হাতে দুই হাজার ইয়াবাসহ ধরা পড়েন। ওই সময় হাছিনা আক্তারের সঙ্গে দুই সন্তানও কারাগারে ছিল। ওই বছরের ২৭ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

এদিকে মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগরীর পঞ্চম অতিরিক্ত জজ জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হাছিনা আক্তারকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরো এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের পর টেকনাফ থানার পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে হাছিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। এরপর হাছিনার স্বজনরা দাবি করেন যে এই হাছিনা অপরাধী নন। তাঁকে পুলিশ বিনা কারণে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানের পর টেকনাফ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) খোরশেদ আলম আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে জানান, ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া হাছিনা বেগম ও কারাগারে থাকা হাছিনা বেগম এক নন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বর্তমানে কারাগারে থাকা হাছিনা বেগমের স্বামী পলাতক আছেন অন্য মামলায়। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্ভব হয়নি।