kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন তহবিলে নেই ভাসানচর

মেহেদী হাসান   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি ভাসানচরের জন্য। দাতা ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘ। জানা গেছে, চলতি বছরের জন্য ৯৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় আট হাজার চার কোটি ৪২ লাখ টাকা) যৌথ সাড়াদান কর্মসূচি (জয়েন্ট রেসপনস প্ল্যান, সংক্ষেপে জেআরপি) প্রণয়ন করেছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারগুলো। শিগগিরই ওই আট হাজার চার কোটি ৪২ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও শুরু হয়েছে। আট লাখ ৭৭ হাজার ৭১০ জন রোহিঙ্গা এবং চার লাখ ৭২ হাজার দুজন স্থানীয় বাসিন্দার জরুরি মানবিক সহায়তাসহ অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করতে ওই তহবিল গঠন করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ৯টি সংস্থা, ৫৬টি আন্তর্জাতিক এনজিও এবং ৬৯টি দেশীয় এনজিওর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ওই অর্থ প্রয়োজন।

এবারের জেআরপিতে চারটি কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা জোরদার করা, প্রয়োজনীয় মানসম্মত জীবনরক্ষাকারী সেবা প্রদান করা, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের কল্যাণ জোরদার করা এবং মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনে কাজ করা।

জেআরপিতে ভাসানচর নিয়ে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যমান অবকাঠামো অনুযায়ী এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশ সরকারের। তবে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া সুপারিশে বলেছে, ভাসানচরে নতুন করে যেকোনো স্থানান্তর প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে ও ধাপে ধাপে হওয়া উচিত। জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভাসানচর নিয়ে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত আছে। এরই অংশ হিসেবে ১৭ থেকে ২০ মার্চ বাংলাদেশে জাতিসংঘের একটি দল ভাসানচর সফর করে।

জেআরপিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ দল ভাসানচর পরিস্থিতি ও স্থাপনা এবং সেখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের চাহিদার বিষয়েও জাতিসংঘ দল অবগত হয়েছে। জাতিসংঘ এরই মধ্যে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও সুরক্ষার বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সরকারকে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জীবন ও মঙ্গলের বিষয়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরো আলোচনা করতে চায়।

জেআরপিতে বলা হয়েছে, ভাসানচরে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা ও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার, দাতা সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মঙ্গে নিবিড় আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। জাতিসংঘ এ ধরনের আলোচনায় বসতে সম্মত আছে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কালের কণ্ঠকে বলেছেন, রোহিঙ্গারা এ দেশের যেখানেই থাকুক না কেন জাতিসংঘের কাজ তাদের সেবা দেওয়া। জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যে সমঝোতা হয়েছে সেখানে বলা নেই যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদেরই তারা শুধু সেবা দেবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই রোহিঙ্গাদের জন্য যে তহবিল সংগ্রহ করা হয় ভাসানচরের জন্য তার আনুপাতিক ভাগ চাইবে বাংলাদেশ। যেমন ভাসানচরে যদি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ১০ ভাগের এক ভাগ স্থানান্তর করা হয় তাহলে তহবিলেরও ১০ ভাগের এক ভাগ ভাসানচরে ব্যয় করার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।