kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৭ জুলাই ২০২১। ১৬ জিলহজ ১৪৪২

সিলেট-তামাবিল সড়ক যেন মরণফাঁদ!

সিলেট অফিস   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে গেছে ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়ক। মহাসড়কজুড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টমটমের আধিক্যই নজরে পড়ে বেশি। এসব যানবাহনের বেশির ভাগই চালান অদক্ষ চালকরা। পাশাপাশি রয়েছে হাইওয়েতে ট্রাকচালকদের বেপরোয়া মনোভাব ও ট্রাফিক সাইন না মানার প্রবণতা; সব মিলিয়ে সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুর উপজেলা যেন মৃত্যুর জনপদ হয়ে উঠেছে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখানে নিয়মিত বিষয় হলেও গত রবিবার একই দিনে দুটি দুর্ঘটনায় আট মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এনেছে এ জনপদকে।

গত রবিবার জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নে ট্রাকচাপায় তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার সোহেল আহমদ (৩৫) এবং কানাইঘাট উপজেলার গাছাবাড়ী ইউনিয়নের হাফিজ সুলতান আহমদ (২৮) ও আশিক আহমদ (২৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে সিলেট-তামাবিল সড়কের দরবস্ত এলাকায় ইটবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি ওয়ার্কশপে ঢুকে পড়ে। এতে ট্রাকচাপায় তিনজন নিহত হন। আহত হন আরো দুজন। ওই দিন ভোরে একই এলাকায় একটি অটোরিকশাকে ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলে একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

জৈন্তাপুর উপজেলায় এমন ঘন ঘন সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ট্রাকচালকদের বেপরোয়া মনোভাবকে দায়ী করেছে স্থানীয়রা। তাদের মতে, জৈন্তাপুরের পাথর কোয়ারিগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ট্রাকচালকরা স্থানীয় অদক্ষ বদলি চালকের হাতে ট্রাক তুলে দেওয়ার কারণেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া মহাসড়কের যত্রতত্র গড়ে ওঠা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত টমটমের স্ট্যান্ড, মহাসড়কজুড়ে নম্বর প্লেটবিহীন অটোরিকশায় সয়লাব হয়ে যাওয়াকে অনেকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করছে। দুর্ঘটনা রোধে বাজার ও স্কুল এলাকার মতো জায়গাগুলোতে স্পিড ব্রেকার দেওয়ার দাবি জানায় স্থানীয়রা।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি গোলাম দস্তগীর আহমদ জানান, নানা কারণে জৈন্তাপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। এর জন্য যেমন ট্রাকচালকদের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক সাইন না মানা দায়ী, তেমনি মহাসড়কের যত্রতত্র অটোরিকশা ও টমটমের স্ট্যান্ড গড়ে ওঠাও দায়ী।

তিনি বলেন, ‘ট্রাকচালকরা বাজার এলাকার মতো স্থানেও গতি কমাতে চান না। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের কাউন্সেলিং করানো দরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থাটা এমন যে মহাসড়ক না ছুঁয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার উপায় নেই। যে কারণে অটোরিকশাগুলোকে মহাসড়কে উঠতে হয়।’