kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

নির্মূল কমিটির ওয়েবিনার

জামায়াত-হেফাজতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে জামায়াত-হেফাজতের সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী, সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়।

‘সকল কওমি মাদরাসা সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে’ শিরোনামের এ ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।

আলোচনায় অংশ নেন নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, ডাকসুর সাবেক ভিপি অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি হাফেজ মওলানা জিয়াউল হাসান, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা হাসান রফিক, সুইডেন প্রবাসী সাংবাদিক সাব্বির খান, নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আনসার আহমদউল্লা, অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি একরাম চৌধুরী, ফিনল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক ড. মুজিবুর দফতরী ও নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘শহীদ জননী জাহানারা ইমামের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন আমাদের সব সময় উজ্জ্বীবিত করে। আমরা যখন কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন, ২০১০ সালের শিক্ষানীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করছি, তখন কওমি মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জাতিবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নারীবিদ্বেষী গুজবের কারখানা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

এই মুহূর্তে একবারে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি দেশের মধ্যে যেন দুটি জাতি গড়ে না ওঠে। মাদরাসাগুলোতে ধর্মীয় না জিহাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সে ব্যাপারে মা-বাবাকে জানাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মত দেন তিনি।

অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘লেখাপড়ার বাইরে গিয়ে কওমি মাদরাসায় তারা ধর্মান্ধ, মৌলবাদী হিসেবে গড়ে ওঠে। এ জন্য আমরা দায়ী। মা-বাবা দরিদ্রতার কারণে তাদের মাদরাসায় ভর্তি করে দিচ্ছেন। তাদের সাধারণ শিক্ষার ব্যবস্থা আমরা করে দিতে পারছি না।’ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব বানচালের উদ্দেশে হেফাজত-জামায়াতের দেশব্যাপী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে, জাহানারা ইমামের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার নাগরিক আন্দোলন এখনো কতটা জরুরি। বিলম্বে হলেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যা অভিনন্দনযোগ্য। তবে জামায়াত-হেফাজতের রাজনীতি নিষিদ্ধ না হলে বাংলাদেশ থেকে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস নির্মূল করা যাবে না।’



সাতদিনের সেরা