kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

দর্শকশূন্য চিড়িয়াখানা

স্বস্তিতে প্রাণীরা বাড়ছে প্রজনন

মোবারক আজাদ   

৩ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বস্তিতে প্রাণীরা বাড়ছে প্রজনন

নেই মানুষের পদচারণ। বিরক্ত করারও কেউ নেই। সময় কাটছে একান্তে নিবৃত্তে। করোনা সংক্রমণের এই সময়টাতে উল্টো সুসময় চলছে জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণিকুলের। লকডাউনের কারণে বায়ুদূষণ অনেকটা কমে আসায় প্রাণিকুল যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। মহামারি মানুষের বিনোদনের সুযোগ কেড়ে নিলেও শান্তিতে নিঃশ্বাস ফেলছে প্রাণীরা। চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় নিজেদের মতো করে একান্ত সময় পার করছে প্রাণিকুল। ফলে প্রজননও হচ্ছে ভালো।

দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলে গেল বছরের ২০ মার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয় জাতীয় চিড়িয়াখানা। সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে গত ১ নভেম্বর কিছু শর্তসাপেক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য ফের খুলে দেওয়া হয়। পরে গত ২ এপ্রিল থেকে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভেতরের উন্নয়নকাজসহ চলছে অন্যান্য রুটিন কাজ।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনা মহামারির এই সময়ে বিভিন্ন প্রাণীর ১২০টি শাবকের জন্ম হয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে গত বুধবার পর্যন্ত পৃথিবীতে এসেছে ৩০টি নতুন প্রাণী। এর মধ্যে রয়েছে ঘোড়া, জলহস্তী, জেব্রা, ময়ূর, ইমু ও বক।  এ ছাড়া প্রতি সপ্তাহে দু-তিনটি হরিণ জন্ম নিচ্ছে। গত বছর দুটি জলহস্তী, একটি জিরাফ, দুটি ইম্পালা, একটি ঘোড়া, ১৮টি চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ,  ২৩টি ময়ূর, ৩০টি বক, সাতটি ঘুঘু, ১৫টি কবুতর ও ৩০টি বকসহ ১২০ শাবক জন্ম নেয় মিরপুরের ১৮৬ একরের এই চিড়িয়াখানায়। এখন নতুন-পুরান মিলিয়ে এক হাজার ৮২১টি প্রাণী রয়েছে। 

চিড়িয়াখানার পরিচালক আবদুল লতিফ বলেন, চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় প্রাণীদের নানা সুবিধা হচ্ছে। প্রজনন বেড়েছে এবং তাদের ভালোভাবে খাবার ও পরিচর্যা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে জলহস্তীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। অন্য কোনো চিড়িয়াখানায় প্রয়োজন হলে দিয়ে দেওয়া হবে। ১৩টি  জলহস্তীর শেড ভর্তি হয়ে গেছে। চিড়িয়াখানায় যে জায়গা আছে এর মধ্যে ছয় থেকে সাতটি জলহস্তী থাকতে পারে। সবগুলো এখন একসঙ্গে রাখতে সমস্যা হচ্ছে। তবে মহামারির কারণে বিদেশ থেকে নতুন প্রাণী আনা সম্ভব হচ্ছে না। দুইবার চাহিদা দিয়ে তা বাতিল করতে হয়েছে। তবে মহামারি শেষ হলেই যেসব প্রাণীর সংকট রয়েছে এগুলো আনা হবে।

চিড়িয়াখানার তথ্য কর্মকর্তা ড. বেগম জেসমিন বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে চিড়িয়াখানাটি থাকলেও এত দিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়ে একান্তে সময় কাটাতে পারত না প্রাণিকুল। দর্শনার্থীরা প্রাণীদের নানাভাবে বিরক্ত করত। ফলে ব্যাহত হতো স্বাভাবিক প্রজনন। করোনায় চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় এখন নিজেদের মতো করে সময় কাটাচ্ছে প্রাণীরা।

উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে চিড়িয়াখানার পরিচালক আবদুল লতিফ বলেন, চিড়িয়াখানাকে প্রাণিকুলের জন্য অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার কাজ পুরোদমে চলছে। এ জন্য উত্তর-পশ্চিম কর্নারে লেকের মধ্য দিয়ে গাইড ওয়াল, কয়েকটি চোরাই রাস্তা বন্ধ, বাঘের খাঁচাকেন্দ্রিক কানেক্টিং রোড, উটপাখিকেন্দ্রিক চারপাশে সড়ক, জলহস্তী ও বানরের খাঁচার আশপাশে সড়কের কাজ চলছে। চিড়িয়াখানার সামনে বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রঙিন বাতি দেওয়া হয়েছে। গেট ডিজিটাল করা হয়েছে। এ ছাড়া পার্কিং সাইট আলোকিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর চিড়িয়াখানার আদলে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে অভয়ারণ্য করে সাজানোর পরিকল্পনা করছে প্রাাণিসম্পদ অধিদপ্তর।



সাতদিনের সেরা