kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

ব্র্যাকের জরিপ

বিদেশফেরতদের ৪৭ শতাংশ কর্মহীন

উদ্বেগে প্রায় সবাই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বছর পেরিয়ে গেলেও কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীদের ৪৭ শতাংশই এখনো আয়ের জন্য কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেননি। ফলে দৈনন্দিন খরচ চালাতে তাঁদের অনেককেই পরিবারের আয় বা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। অন্যদিকে ৫৩ শতাংশ কৃষিকাজ, ছোটখাটো ব্যবসা বা শ্রমিক হিসেবে নিজেকে যুক্ত করে বর্তমানে পরিবার চালাচ্ছেন। তবে বিদেশফেরতদের ৯৮ শতাংশই এখনো তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রগ্রামের ‘বিদেশফেরতদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি অন্বেষণ এবং বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শুক্রবার অনলাইনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত বছরের মার্চ-এপ্রিলে ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ২২ মে একটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ব্র্যাক। এক বছর পর পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হয়েছে, সেটা জানতেই ফের জরিপ করা হয়।

গুণগত ও পরিমাণগত উভয় পদ্ধতিতেই দেশের সাতটি বিভাগের অভিবাসনপ্রবণ ৩০ জেলায় এই বছরের মার্চ ও এপ্রিলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। ব্র্যাক গত বছর যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছিল এবারও তাঁদেরসহ মোট এক হাজার ৩৬০ জন বিদেশফেরত কর্মীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৭ জন এরই মধ্যে বিদেশে চলে গেছেন। একটি বড় অংশকেই ফোনে পাওয়া যায়নি। অনেকেই তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে ৪১৭ জন বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের উত্তরের ভিত্তিতে জরিপ প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

উত্তরদাতার বেশির ভাগই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯৫.৬৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৪.৩২ শতাংশ নারী। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই গ্রামে বাস করছেন (৮৮.০১ শতাংশ), বাকিরা শহর এলাকায় বসবাস করছেন।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, গত বছর বিদেশফেরতদের ৮৭ শতাংশ বলেছিলেন, তাঁদের কোনো আয়ের উৎস নেই। এবার দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের প্রায় ৫৩ শতাংশ (৫২.৭৭) কোনো না কোনো কাজে নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছেন। এর মধ্যে ২৪.১৯ শতাংশ কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছেন, ২২.৩৩ শতাংশ দিনমজুরি বা এই ধরনের কাজে যুক্ত হয়েছেন এবং ৩৫.৩৫ শতাংশ ছোট কোনো ব্যবসা শুরু করেছেন। এ ছাড়া ১৭.৬৭ শতাংশ অন্য কোনো না কোনো কাজ করছেন।

তবে উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪৭.২২ শতাংশ বিদেশফেরতই গত এক বছরেও কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেননি। তাঁরা তাঁদের দৈনন্দিন খরচ চালাতে পরিবারের আয় বা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা নিয়ে চলছেন। উত্তরদাতাদের ২৮ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা এরই মধ্যে ধারদেনায় জর্জরিত হয়েছেন এবং ৭২ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা ফের বিদেশে চলে যেতে চান।

প্রতিবেদনে প্রবাসীদের বর্তমান মানসিক অবস্থাও উঠে আসে। গত বছর অংশগ্রহণকারীদের ৭৪ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু এবার ৯৮ শতাংশ উত্তরদাতাই বলেছেন, অপর্যাপ্ত আয়, বেকারত্ব, পুনরায় বিদেশ যেতে না পারা, পারিবারিক চাপ ইত্যাদির কারণে চরম উদ্বিগ্নতা ও মানসিক চাপের মধ্যে আছেন।

প্রবাসীরা বলছেন, ৭১ শতাংশই প্রতিবেশী বা আত্নীয়-স্বজনের কাছ থেকে সহযোগিতামূলক আচরণ পেয়েছেন। তবে ২৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা কারো কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি।

কভিড শুরুর পর গত বছরের মার্চ থেকে এই বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ প্রবাসী দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন। এঁদের মধ্যে অনেকে ফিরেছেন আতঙ্কে, অনেক ফিরেছেন চাকরি হারিয়ে, কেউ ফিরেছেন স্থায়ীভাবে, আবার কেউ বা শুধু ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলেন।

উত্তরদাতাদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। ১৯ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। ১৬ শতাংশ বলছেন, তাঁরা ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। ১২ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা একেবারেই চলে এসেছেন এবং ২ শতাংশ অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে এসেছেন।



সাতদিনের সেরা