kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

৯৯৯-এর পরিধি বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশের পরিচালনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পরিধি বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যেন ৯৯৯-এর হটলাইনে কল করে সেবা পেতে পারে সে জন্য কাজের ক্ষেত্র বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে একসঙ্গে ১০০ কল গ্রহণ করতে পারে এই কেন্দ্র। সেটি বাড়িয়ে ৫০০ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আর এ জন্য বর্তমানের ৪৫০ জনের লোকবল বাড়িয়ে তিন হাজার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সচিবালয়ের ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) টেলিকম সেন্টার থেকে ডেমরায় নিজস্ব ২২ তলা ভবনে এর কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এখন প্রতিদিন গড়ে ২৫ হাজার কল আসছে ৯৯৯-এ। জনগণের আস্থা বাড়ায় ৯৯৯-এ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুল্যান্সের পাশাপাশি সারা দেশে দ্রুত তথ্যসেবা পৌঁছানোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। দুর্যোগ, গুজব বা কোনো সংকটে জরুরিভাবে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হবে। এর জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। লোকবল-অবকাঠামোর এসব প্রস্তাবনা পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে।

৯৯৯-এর প্রধান, পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকেও যেন জরুরিভাবে সেবা দেওয়া যায় সে চিন্তা করে ৯৯৯-এর পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন আমরা ১০০ কল ধরতে পারি। এটিকে বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন কিছু সেবাও আমরা যুক্ত করতে পারব। এর জন্য ডিপিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় আছে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর যাত্রা শুরু হয়। গত নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছরের একটি হিসাব ঘেঁটে দেখা গেছে, ওই সময় দুই কোটি ৫২ লাখ ৮৮ হাজার ২৬টি কল এসেছে। সেবা দেওয়ার কল (সিএফএস) ছিল ৫৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৭টি। সরাসরি সেবা দেওয়া হয়েছে চার লাখ ১৩ হাজার ৭৭ কলে। পুলিশি সেবা দেওয়া হয়েছে তিন লাখ তিন হাজার ৪৮৬ কলে। ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হয় ৪৩ হাজার ৫৯৮ কলে। অ্যাম্বুল্যান্স সেবা দেওয়া হয় ৬৫ হাজার ৯৯৩ কলে। এখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ হাজার কল আসছে ৯৯৯-এ।

সূত্র মতে, ক্রমেই ৯৯৯ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এর সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় পুলিশ সদর দপ্তর। ২০১৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুল ইসলামকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী ডেমরার আমুলিয়ায় জমিও নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিপিপির মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন হলে সেখানে ২২ তলা তিনটি ভবন করার পরিকল্পনা আছে।