kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

মেয়রই তরমুজ বিক্রেতা

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লকডাউন ও রমজান মাসের শুরু থেকে মেহেরপুরের গাংনী বাজারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তরমুজ বিক্রি করে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছিলেন ব্যবসায়ীরা। পিস হিসেবে কিনে তা বাজারে বিক্রি করছিলেন কেজি হিসেবে। তাও কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে। ফলে একটি তরমুজ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

গাংনী পৌরসভার মেয়র আহম্মেদ আলী বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেন তরমুজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। কিন্তু দাম কমাতে নারাজ ব্যবসায়ীরা। শেষে মেয়রই পৌরসভার পক্ষ থেকে অল্প দামে তরমুজ বিক্রির উদ্যোগ নিলেন। তিনি পৌরসভার তহবিল ও গাড়ি ব্যবহার করে বগুড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তরমুজ সংগ্রহ করে গত সোমবার থেকে বিক্রি করছেন। গাংনী বাজারে (বাসস্ট্যান্ড) ‘পৌর ফল ভাণ্ডারে’ এই তরমুজের ছোটগুলো ৩৫ টাকা কেজি এবং বড়গুলো ৪০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। আর সেখানে তরমুজ কিনতে ভিড় করছে বিভিন্ন এলাকার মানুষ। প্রতিদিন গড়ে পৌরসভার এক ট্রাক করে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। মেয়রকে এ কাজে সহযোগিতা করেন পৌরসভার কর্মীরা (স্টাফ)। এই উদ্যোগের ফলে গাংনীতে তরমুজ নিয়ে সিন্ডিকেট ভেঙে পড়েছে।

তরমুজ কিনতে গিয়ে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুরাদ আলী বলেন, দাবদাহে তরমুজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গাংনীতে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়। গাংনী পৌর মেয়রের এ উদ্যোগ যথোপযোগী। এতে গাংনী পৌরবাসী ছাড়াও সব মানুষ অল্প মূল্যে তরমুজ খেতে পারবে। তবে তিনি তরমুজের মূল্য আরেকটু কমানোর দাবি করেন।

কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাহাজুল ইসলামও মেয়রের এ পদক্ষেপকে সময়োপযোগী বলে সাধুবাদ জানান। তিনি শুধু তরমুজের বাজার নয়, গাংনী বাজারের সব ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট ভাঙতে মেয়রের প্রতি আহ্বান জানান। আর ৩০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করার দাবি জানিয়েছে ক্রেতারা।

পৌরসভার উচ্চমান সহকারী টিক্কা বিশ্বাস জানান, পৌরবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র নিজে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তরমুজ সংগ্রহ করে তা বাজারজাত করছেন। পুরো রমজান মাসে এ মূল্যে তরমুজ বিক্রি কার্যক্রম চলবে।

মেয়র আহম্মেদ আলী বলেন, ‘গাংনীতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। তরমুজের পাশাপাশি মাংসের বাজারেও পৌরসভার পক্ষ থেকে নজরদারি থাকবে। আমরা সকলেই ক্রেতা। আমার পৌরসভার একটি মানুষও যেন ব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রতারিত না হয়, সে বিষয়েও আমরা দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সাথে কাজ করছি।’