kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ঈদের উত্তাপ না থাকলেও বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদের উত্তাপ না থাকলেও বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম

করোনা মহামারির প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে বেসরকারি খাতের অনেক মানুষ। কর্ম যাঁদের আছে, তাঁদের অনেকেই আবার শঙ্কায় আছেন বেতন-বোনাস নিয়ে। এমন অবস্থায় ঈদের আগে বাজারে জিনিসপত্র কেনার চাপ এখনো তৈরি হয়নি। কিন্তু নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই।

রাজধানীর বাজারগুলোতে বোতল ও খোলা—দুই ধরনের ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে লিটারে চার থেকে পাঁচ টাকা। ডাল, চিনির দাম তো আগে থেকেই চড়া। কিছুটা কমার পর আবার বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা করে।

রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা বোতলের সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে দিলেও বাজারে নতুন দামের তেল এখনো আসেনি। বাজারে এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। এ ছাড়া পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৬৮৫ টাকায়। দুই লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়। তবে অনেক খুচরা ব্যবসায়ী বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। এ ছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে চার টাকা বেড়ে গেছে। দুদিন আগে ১৩০ থেকে ১৩২ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া খোলা সয়াবিন তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৩৬ টাকায়। ১২০ থেকে ১২২ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাম সুপারের দাম বেড়ে ১২৫ থেকে ১২৭ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৩৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এরপর থেকে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত ওই দামেই তেল বিক্রি করছিলেন। তবে ১৯ এপ্রিল কম্পানিগুলোর সমিতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে চিঠি দিয়ে নতুন দাম নির্ধারণের কথা জানায়। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এতে সায় দেয়নি। তার পরও বেড়েছে তেলের দাম।

এনায়েতুল্লাহ নামের এক পাইকারি বিক্রেতা বলেন, ‘স্বাভাবিক সময় হলে পাইকারি বাজারে এখন বেচাবিক্রির ধুম থাকত। তার পর খুচরা বিক্রি শুরু। কিন্তু এবার করোনা, মাসের শুরু এবং গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় ঈদের বেচাবিক্রি নেই।’

নিত্যপণ্যের বাজার চড়া হলেও অনেক সবজির দামই কমে আসছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুনের কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, মানভেদে শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম গত সপ্তাহে ১০-২০ টাকা বাড়তিতে কিনতে হয়েছিল ক্রেতাদের। দাম কমার তালিকায় রয়েছে পটোল, বরবটি, ঢেঁড়স, ঝিঙেও। পটোল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা; বরবটি ৪০ থেকে ৫০, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০, টমোটো ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আসা ফুলকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়। আগের সপ্তাহে এগুলো কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেশি ছিল। ডিমের দাম আগের মতোই, ২৮ থেকে ৩০ টাকা হালি।

বাজারে মাছের দাম কিছুটা চড়া। রুই, পাঙাশ, তেলাপিয়া, শোল, চিংড়ি, পাবদাসহ প্রায় সব ধরনের মাছের দামই বেশি।