kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ভারতকে রেমডেসিভির দিতে চায় বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ভারতকে জরুরি ওষুধ ও মেডিক্যালসামগ্রী দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা গতকাল নয়াদিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতকে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেমডেসিভির ওষুধ দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। বিবিসি জানায়, রেমডেসিভির করোনা চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি ওষুধ। বাংলাদেশের আটটি কম্পানির এ ওষুধ তৈরির অনুমোদন রয়েছে। সম্প্রতি ভারতে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় দেশটিতে এই ওষুধের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রেমডেসিভির পেটেন্ট প্রতিষ্ঠান গিলিয়ার্ডের সঙ্গেও সরাসরি ভারত যোগাযোগ রাখছে বলে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বলছে যে আমরা রেমডিসিভির উৎপাদন করছি। আমাদের কাছ থেকে নিন। কেন তারা বলছে, কারণ তারা অনুভব করছে যে এটাই সহযোগিতার সময়। ভারত আমাদের সহযোগিতা করছে এবং আমাদেরও তাদের সহযোগিতা করতে হবে।’

বিবিসি জানায়, ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের ব্রিফিংয়ে টিকার প্রসঙ্গও এসেছে। তবে তিনি বাংলাদেশকে সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকা দেওয়া নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

শ্রিংলা বলেন, “বিশ্বে এখন সবাই একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। আমরা দিচ্ছি এবং নিচ্ছিও। আপনি যাই উৎপাদন করেন সেখানে একটি ‘সাপ্লাই চেইন’ থাকে। ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্ষেত্রে কেউ কোনো উপাদান সরবরাহ করে আবার আপনি পুরোপুরি তৈরির কারণ কাঁচামাল সরবরাহ করলেন। আমার মনে হয় ভ্যাকসিনকেও সেভাবেই দেখতে হবে। আমরা আমাদের ভ্যাকসিন কর্মসূচি শুরু করেছি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও আছে।”

তিনি আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন (টিকার) যে অনেক বেশি, সেটা আমাদের অংশীদার দেশগুলোও উপলব্ধি করছে।’

উল্লেখ্য, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট তিন কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে চুক্তি করে দেড় কোটি ডোজের অগ্রিম টাকা নিলেও সময়মতো সব টিকা দিতে পারেনি। জানুয়ারি থেকে প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৭০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে তারা। ফলে বাংলাদেশ করোনার টিকা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে চীন ও রাশিয়ার টিকা আনার এবং এ দেশেই যৌথভাবে উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে ভারত তার দেশের নিজস্ব টিকা কোভ্যাক্সিন বাংলাদেশে যৌথভাবে উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত ভারতের পাশে থাকার কথা বলেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতে জরুরি ওষুধ ও মেডিক্যালসামগ্রী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এই ওষুধ ও মেডিক্যালসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার ভায়াল অ্যান্টি-ভাইরাল ইঞ্জেকশন, ওরাল অ্যান্টি-ভায়াল, ৩০ হাজার পিপিই কিট, সাত হাজার জিংক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-সি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, করোনা মহামারির বিস্তারের কারণে ভারতে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছে। এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ সহমর্মিতা নিয়ে প্রতিবেশী ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং জীবন রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছে।