kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মালচিংয়ে সাফল্যের আশা

শরীফ আহেমদ শামীম, গাজীপুর   

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মালচিংয়ে সাফল্যের আশা

সারি সারি মাচা। কোনোটায় হলুদ তরমুজ, কোনোটায় লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শসা, চিচিঙ্গা, করলা, উস্তা কিংবা ঝিঙা। মাচার ফাঁকে ফাঁকে বেগুন, ঢেঁড়স, ডাটা, পেঁপে, পুঁই শাকের প্লট। গাজীপুর শহরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট দেওড়া এলাকার কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন ও ইশতিয়াক মুনীমের কৃষি খামার এটি। 

‘বিষমুক্ত সবজি ও ফল’ উৎপাদন করার লক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে দুই একর জমিতে এই দুই তরুণ গড়ে তোলেন খামারটি। নাম দিয়েছেন ‘বায়ো গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্ম’। আড়াই মাসের মধ্যেই তুলতে শুরু করেছেন ফলন।

ইশতিয়াক জানান, বাজারে ভেজাল সবজি দেখে চিন্তাটা মাথায় আসে তাঁর। সিদ্ধান্ত নেন রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত সবজি ও ফল উৎপাদনের। বন্ধু শাহদাতেরও স্বপ্ন ছিল এমন কিছু একটা করার। গত  ফেব্রুয়ারিতে বাড়ির পাশে নিজেদের পতিত জমিতে এ উদ্যোগের সূচনা করেন দুই বন্ধু। রমজানের চাহিদার কথা মাথায় রেখে চাষ করেন শসা, বেগুন ও হলুদ তরমুজ। পরে লাগান অন্যান্য সবজি। চলতি এপ্রিলের মাঝামাঝি ফলন আসতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত শসা বিক্রি করেছেন ৩০ হাজার টাকার। প্রতিদিন বেগুন বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকার। খামারে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে তিন লাখ টাকা। আশা করছেন দ্রুতই এ টাকা উঠে এসে লাভের মুখ দেখতে শুরু করবেন।

খামারটি ঘুরে দেখা গেছে, শসা, বেগুনের পাশাপাশি লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, ডাঁটায় ভরে উঠছে খামারের মাচা। এর বাইরে সর্বাধিক চোখে পড়ল হলুদ তরমুজ। প্রতিটি মাচায় ঝুলছে ‘তৃপ্তি’ জাতের শত শত হলুদ তরমুজ।

আরেকজন উদ্যোক্তা শাহাদাত জানান, তাঁরা আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতির চাষাবাদ শুরু করেছেন। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য বেড় তৈরি করে এক ধরনের বিশেষ প্লাস্টিক কাগজ দিয়ে মাটি ঢেকে দিতে হয়। নির্দিষ্ট দূরত্বে কাগজ ফুটো করে চারা লাগাতে হয়। বিশেষ এ কাগজ মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও গুণগতমান ঠিক রাখে। সেচ কম লাগে। আগাছা জন্মাতে পারে না। জৈব সারের সক্ষমতা ধরে রাখে এক বছর। পোকামাকড় মারতে ব্যবহার করা হয় ফেরোমিন ফাঁদ প্রযুক্তি।  



সাতদিনের সেরা