kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

জাতিসংঘে বাংলাদেশের উদ্যোগ

২৫ জুলাই পানিতে ডুবে মৃত্যুরোধ দিবস

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধবিষয়ক ঐতিহাসিক এক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। গত বুধবার রাতে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি বছরের ২৫ জুলাই বিশ্বব্যাপী ‘পানিতে ডুবে মৃত্যুরোধ’ দিবস পালিত হবে।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, গৃহীত প্রস্তাবে পানিতে ডুবে মৃত্যুকে একটি ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এ ধরনের প্রস্তাব এটিই প্রথম। নীরব এই বৈশ্বিক মহামারির বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ২০১৮ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রস্তাবটিতে সহনেতৃত্ব দেয় আয়ারল্যান্ড। আর এতে সহপৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে ৮১টি দেশ। পানিতে ডুবে মৃত্যু বিশ্বের প্রতিটি জাতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

প্রস্তাব উত্থাপনের প্রাক্কালে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বৃহত্তর বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব গ্রহণের তাগিদ অনুভব করেছিল বাংলাদেশ; আর সে কারণেই এই প্রচেষ্টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছে।’

রাবাব ফাতিমা জোর দিয়ে আরো বলেন, ‘আমরা বিশ্বব্যাপী শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা যদি পানিতে ডুবে মৃত্যুহারকে শূন্যের কোটায় না আনতে পারি তবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের সাফল্য অর্থাৎ এসডিজি-৩ অর্জন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে’।

রাবাব ফাতিমা বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো ঘটনার ৯০ শতাংশ হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এবং এশিয়াতে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করছে। তিনি বলেন, ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু শুধু দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি বৈষম্য।’