kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাব

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভবিষ্যতে মহামারি প্রতিরোধে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবায়োলজিক্যাল রেজিস্ট্যান্সের (অণুজীব প্রতিরোধী সক্ষমতা বা এএমআর)’ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাকে অপরিহার্য বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অণুজীববিরোধী প্রতিরোধ্যতাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের পর এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।

প্রথম দফায়ই তিনি নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে অণুজীব প্রতিরোধী সক্ষমতা বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন খাতের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রস্তাবের দ্বিতীয় দফায় ভালো উৎপাদন, গবেষণার চর্চা ও নজরদারি কাঠামোর ওপর জোর দেন। প্রস্তাবের তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি স্থানান্তর ও মালিকানা ভাগাভাগির মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। চতুর্থ দফায় তিনি অণুজীববিরোধী প্রতিরোধ্যতা নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়নের কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রস্তাবের পঞ্চম দফায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অংশীদারি ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে অণুজীববিরোধী প্রতিরোধ্যতার বিষয়ে বৈশ্বিক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছেন।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন ‘অ্যান্টিমাইক্রোবায়োলজিক্যাল রেজিস্ট্যান্স’ বিষয়ক বৈশ্বিক নেতাদের গ্রুপের সহসভাপতি হিসেবে। আরেক সহসভাপতি বারবাডোজের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তিনি অ্যান্টিমাইক্রোবায়োলজিক্যাল রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভূমিকা রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত আছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ‘অ্যান্টিমাইক্রোবায়োলজিক্যাল রেজিস্ট্যান্স’ বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন ভয়াবহ করোনা মহামারি প্রত্যক্ষ করছে। তবে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবায়োলজিক্যাল রেজিস্ট্যান্স’ আগামী দিনে আরো প্রাণঘাতী মহামারির কারণ হতে পারে। যথাসময়ে এই ঝুঁকি মোকাবেলা করতে না পারলে মানুষ, জীবজন্তু ও গাছপালার বিশাল ক্ষতি হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ প্রতিবছর এক কোটি মানুষের মৃত্যু হবে অ্যান্টিমাইক্রোবায়োলজিক্যাল রেজিস্ট্যান্সের কারণে। অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে অগ্রগতি ব্যাহত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমরা অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স কনটেইনমেন্ট (এআরসি) বিষয়ক ছয় বছর মেয়াদি (২০১৭-২২) জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। এআরসিবিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটি ও ‘বাংলাদেশ এএমআর রেসপন্স অ্যালায়েন্স’ গঠন করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা