kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

বাঁশখালীতে সংঘর্ষ

গুলিবিদ্ধ আরো দুই শ্রমিকের প্রাণহানি

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুলিবিদ্ধ আরো দুই শ্রমিকের প্রাণহানি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে আহত আরো দুই শ্রমিক মারা গেছেন। গত মঙ্গল ও বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। এর ফলে নিহত শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়াল সাতজনে। এ ছাড়া গুরুতর আহত আরো ১২ শ্রমিক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সর্বশেষ মারা যাওয়া শ্রমিকরা হলেন দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আব্দুল মান্নানের ছেলে রাজিউল ইসলাম (২৫) এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আব্দুল মালেকের ছেলে শিমুল আহমেদ (২৩)।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন শিমুল আহমেদ। আর গত বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর পার্কভিউ নামের এক বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন রাজিউল। দুজনই বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজিজুল ইসলামও দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চত করেছেন।

গত শনিবার সকালে বাঁশখালীর কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের ১১ দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে পাঁচ শ্রমিক নিহত এবং ৩২ আহত হন। সেদিন নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ফারুক আহমদের ছেলে মাহমুদ হাসান রাহাত (২২), চুয়াডাঙ্গার অলি উল্লাহর ছেলে মো. রনি হোসেন (২৩), নোয়াখালীর আব্দুল মতিনের ছেলে মো. রায়হান (১৯), চাঁদপুরের মো. নজরুলের ছেলে মো. শুভ (২২) এবং বাঁশখালীর পূর্ব বড়ঘোনার মওলানা আবু ছিদ্দিকীর ছেলে মাহমুদ রেজা (১৯)। এর আগে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ওই বিদ্যুেকন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছিল।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রে গিয়ে থমথমে অবস্থা দেখা গেছে। সেখানে চীনের ৯ শতাধিক কর্মকর্তা-শ্রমিক এবং দেশের কিছুসংখ্যক শ্রমিক কাজে যোগদান করলেও কর্মরতদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মোস্তান বিল্লাহ বলেন, ‘ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, কাজে যোগদানকারী শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়ছে। কয়েক দিনের মধ্যে সব শ্রমিক কাজে যোগদান করবে।’

বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা) জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দে র (আসক) পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দাখিল করা হয়।

আসকের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, সৈয়দা নাসরিন, শাহীনুজ্জামান ও নীনা গোস্বামী রিট আবেদনটি দাখিল করেন। রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র, আইন, শিল্প ও বাণিজ্যসচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে তিন কোটি টাকা এবং আহতদের পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান, ওই ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলা প্রত্যাহার, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা, নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল আসকের পক্ষ থেকে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ ১১ দফা দাবি নিয়ে অসন্তোষের জেরে গত ১৭ এপ্রিল পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ শ্রমিক নিহত ও অন্তত ৩২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন শুভ, মো. রাহাত, আহমদ রেজা, রনি হোসেন ও রায়হান। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। বাশখালী থানার পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। আর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়কারী মো. ফারুক বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। এ দুটি মামলায় শ্রমিক ও এলাকাবাসীসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা