kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

বাইডেন জলবায়ু সম্মেলন শুরু আজ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

নিখিল ভদ্র   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

ছবি : ইন্টারনেট

জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ডেমোক্র্যাট শিবিরের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি সবুজ জলবায়ু তহবিলে (গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড) নতুন করে ১০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বের ৪০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিয়ে ‘লিডার্স সামিট অন ক্লাইমেট’ নামে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যা এরই মধ্যে বাইডেন জলবায়ু সম্মেলন নামে পরিচিতি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে আশা জাগাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিকল্প নেই। তাই আগামীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৩০ শতাংশ নাবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিতকরণে পরিকল্পনা নিতে হবে। সে জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমাতে হবে। আর বাইডেন জলবায়ু সম্মেলনে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অভিযোজন ও প্রশমন কর্মসূচিতে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির মাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে। কপ-২১ নামে পরিচিত ওই সম্মেলনে উষ্ণতা বৃদ্ধির মাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে কমিয়ে আনার কথাও বলা হয়। এ ক্ষেত্রে মূল ভাবনা ছিল, সমগ্র বিশ্ব জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ক্রমান্বয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ফিরবে। অথচ চীন, জাপান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ৩৫টি বড় ব্যাংক জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে অর্থায়ন বাড়িয়েছে।

উদ্ভূত বাস্তবতায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনব্যাপী ‘লিডার্স সামিট অন ক্লাইমেট’ নামে জলবায়ু সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। করোনা পরিস্থিতির কারণে সম্মেলনটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিশেষ দূত ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানান। ওই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের অবদানের জন্য জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্মেলনে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তাই সেখানে বাংলাদেশের বড় ধরনের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসময় জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জন্য বৈশ্বিক উদ্যোগের কথা বলেছিলেন। তিনি এখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতে পারেন। কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অভিযোজন ও প্রশমন কর্মসূচিতে অর্থায়নের বিষয়েও তিনি সম্মেলনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখতে পারেন।

সূত্র জানায়, সম্মেলনে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফের) চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু বিপদাপন্নতার বিষয়গুলো তুলে ধরবে। অতিবিপদাপন্ন দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে জিসিএফের দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে অভিযোজনের জন্য অর্থ এবং প্রযুক্তি সহায়তারও দাবি জানানো হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় একটি বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই সম্মেলন আহবান  করেছেন। সম্মেলনের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য বড় কার্বন নির্গমনকারীদের জন্য ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা বেঁধে দিতে হবে। এই লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে পূরণের কর্মসূচি দিতে হবে।

সিভিএফভুক্ত দেশগুলো কার্বন নিউট্রাল অর্থনীতির রাষ্ট্র হওয়ার পথে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন জলবায়ু ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা। তিনি বলেন, সরকার এরই মধ্যে ‘মুজিব ক্লাইমেট পারসপেকটিভ প্ল্যান-২০৩০’ ঘোষণা করেছে। এখন এই সম্মেলনের সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার নেতিবাচক প্রভাবে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে জীবন-জীবিকা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অথচ কার্বন উদগিরণের মাত্রা কমানোর বাধ্যবাধকতা ধনী দেশগুলো এড়িয়ে গেছে। সম্মেলনে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান  জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা