kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

খরায় পুড়ছে রাজশাহী ঝরছে আম

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহীতে এবার আম উৎপাদনে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে আশায় বুক বেঁধেছেন চাষিরা। বাম্পার ফলনের স্বপ্ন নিয়ে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা, কিন্তু কিছুদিন ধরে তীব্র খরায় সেই আশা কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে। বৃষ্টির দেখা নেই। পানির অভাব ও মাঝারি দাবদাহের কারণে গাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে আম ঝরে যাচ্ছে। অন্যবার এই সময়ে আম আকারে যতটুকু হয় এবার পানির অভাবে তার চেয়ে ছোট। বেশির ভাগ গাছে আমের আকার এতই ছোট যে ভেতরে আঁটি হতেও শুরু করেনি। দুই-চার দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজশাহীর দুর্গাপুর, পবা, চারঘাট ও বাঘার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার প্রতিটি আমগাছেই প্রচুর পরিমাণে মুকুল আসে। শুরুতেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সেই মুকুল থেকে গাছে গাছে আমও এসেছে প্রচুর পরিমাণে। দুর্গাপুরের মাড়িয়া গ্রামের আম চাষি নবিউল ইসলাম বলেন, ‘এখনো বেশির ভাগ গাছে প্রচুর পরিমাণে আম আছে। অনেক আমগাছের ডাল ছোট আমেই হেলে আছে। আমগুলো বড় হলে আরো হেলে যাবে ডাল। এমনকি অনেক গাছের ডাল ভেঙেও পড়বে আমের ভারে, কিন্তু এখন খরার কারণে যে হারে আম ঝরে পড়ছে তাতে শেষ পর্যন্ত কী পরিমাণ টিকবে, তা নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বড় ধরনের বৃষ্টি না হলে আম ঝরা রোধ করা যাবে না। এমনকি আম অন্যান্য বারের তুলনায় আকারেও ছোট হবে।’

বাঘার আম চাষি মকবুল হোসেন বলেন, ‘এবার অন্যান্য বারের তুলনায় এই সময়ে আম আকারে ছোট হয়ে আছে। এটি হয়েছে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে। আমের গুটি আসার পরে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়, কিন্তু এবার বাঘায় এক দিন বৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় সেই বৃষ্টিও হয়নি। এই অবস্থা আর ১০-১২ দিন চললে আমরা যে পরিমাণে আমের ফলনের কথা ভাবছিলাম, সেটি আর হয়তো হবে না।’

দুর্গাপুরের আম চাষি আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে বৃষ্টি হলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি, কিন্তু বৃষ্টি না হলে আমের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। এমনকি ঝরে পড়ার পাশাপাশি পোকার আক্রমণও দেখা দেবে প্রচুর পরিমাণে। তবে এরই মধ্যে কোনো গাছে সেচ দেওয়া হয়েছে পানিসংকট দূর করতে, কিন্তু অনেক বাগানে পানির তেমন ব্যবস্থা না থাকায় এবং অনেকেই বৃষ্টির দিকে চেয়ে থাকায় পানিসংকট দেখা দিচ্ছে আমে।’

রাজশাহীতে এবার আম চাষ হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে। আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫৪ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করেছেন আম চাষি ও বিশেষজ্ঞরা।

গতবার রাজশাহীতে আম চাষ হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে। আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল দুই লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদনে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙে। এর আগের বছর ২০১৯ সালে আম চাষ হয়েছিল ১৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে। আর আম উৎপাদন হয়েছিল দুই লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন।

রাজশাহীর ফল গবেষণা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে রাজশাহীতে আম চাষ হয়েছিল ১৭ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল দুই লাখ আট হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন। তবে লক্ষ্যমাত্রার বেশি আম উৎপাদন হয়েছিল। এভাবে ১০ বছর ধরে প্রতিবছর আম চাষ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে গত বছর প্রলয়ংকরী ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছিল।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারও আশা করা হচ্ছে হেক্টরপ্রতি গড়ে ১৫.৫৮ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। সেই হিসাবে এবার আমের উৎপাদন গতবারের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে আমরা আশা করছি। এমনকি এবার লক্ষ্যমাত্রার বেশি আম উৎপাদন হতে পারে। তবে এখন যে খরা চলছে, সেটি কাটিয়ে উঠতে আমবাগানে পানি সেচের কোনো বিকল্প নেই। সেচ না দিলে আম ঝরে পড়া রোধ করা যাবে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমের ফলনেও প্রভাব পড়বে।’



সাতদিনের সেরা