kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

সুবর্ণ জয়ন্তীতে হদিস বীরাঙ্গনা চারুবালার

ফল দিয়ে শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সুবর্ণ জয়ন্তীতে হদিস বীরাঙ্গনা চারুবালার

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে এক বীরাঙ্গনার হাতে ঝুড়িভর্তি ফল তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানার ওসি জাকারিয়া হোসেন। ফল পেয়ে আবেগাপ্লুত চারুবালা নামের ওই বীরাঙ্গনা বললেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পর কেউ একজন এসে আমার খোঁজ নিল। আমি নীরবে-নিভৃতে গ্রামে একা পড়ে আছি। কেউ খোঁজ নেয়নি। সম্প্রতি শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্যরা আমার বাড়িতে এসেছিলেন। তারপর থানার ওসি এলেন। আমার আর কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই।’

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে পদ্মা নদীর অন্য পারের দুর্গম চরের এক গ্রাম রমেশ বালারডাঙ্গি। গত সোমবার বিকেলে সেখানকার ভাঙা ঘরে অবস্থানরত অসুস্থ বীরাঙ্গনা চারুবালাকে (৬৭) দেখতে যান চরভদ্রাসন থানার ওসি মো. জাকারিয়া হোসেন। সঙ্গে ছিলেন দুই সহকর্মী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ আলী মোল্লা ও এসআই আওলাদ হোসেন।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বীরাঙ্গনা চারুবালা বলেন, ‘৫০ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৭ মে আমার স্বামী চন্দ্রচরণ বিশ্বাসকে গুলি করে মারে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা। আমার কোল থেকে কেড়ে নিয়ে দুই বছরের শিশু পার্বতীকে আছড়ে মেরে ফেলে। পরে আমাকে নির্যাতন করে, সম্ভ্রমহানি ঘটায়। সেই দিনের সেই করুণ দৃশ্য আমি কোনো দিনও ভুলতে পারব না। আমার ও আমার পরিবারের এই করুণ কাহিনী জানার পর হেঁটে ও ঘোড়ার গাড়িতে বহু কষ্ট করে এ দেশের মাটির সন্তান পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে দেখতে এসেছেন। জাতি আমাকে ভুলে যায় নাই। এর চেয়ে আজ আর আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে স্বামী ও শিশুসন্তান হারিয়ে চারুবালা পদ্মা নদী থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের দুর্গম বালুচর ও ফসলি মাঠের জমির মধ্যে সহোদর (ভাই) সিদ্ধিচরণ সরকারের কাছে আশ্রিত। সিদ্ধিচরণের বসতভিটার উত্তর পাশে ছনবন ও পাটখড়ি দিয়ে গড়া একটি ভাঙা ঘরে থাকেন চারুবালা। 



সাতদিনের সেরা