kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

প্রধানমন্ত্রী বললেন

যারা উৎপাদন করবে তারা খাবার পাবে না, এটা হতে পারে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যারা উৎপাদন করবে তারা খাবার পাবে না, এটা হতে পারে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার কৃষকদের সর্বপ্রকার সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে, যাতে তাঁরা অধিক খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন এবং কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবে চলমান উৎপাদনকে দুই থেকে তিন গুণ বাড়াতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে উৎপাদন যাতে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হতে পারে তার জন্য যথাযথ মাটি পরীক্ষা করা থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার রাতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন।

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী চলমান কভিড-১৯-এর সময় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকেই কৃষকদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় তাঁদের কষ্ট লাঘব হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্গাচাষিরা যাতে বিনা জামানতে ঋণ পায় সে জন্য আমরা কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের বিনা জামানতে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সারের দাম যা বিএনপি সরকারের আমলে ৯০ টাকা ছিল, তা আজ ১২ টাকায় আমরা নামিয়ে এনেছি। গবেষণার মাধ্যমে উন্নত বীজ আমরা উৎপাদন করছি এবং সেই বীজ আমরা সরবরাহ করছি।’

কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ, যেটা জাতির পিতার লক্ষ্য ছিল—তাঁর সরকার সেই লক্ষ্য কার্যকর করে দিচ্ছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা ৭০ শতাংশের ওপর ভর্তুকি দিচ্ছি এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করে যাচ্ছি, যাতে আমাদের কৃষকরা আরো অধিক পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নত মানের বীজ সরবরাহ ও প্রতিটি কৃষি উপকরণ কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেই সঙ্গে সেচকাজে কৃষক যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেখানে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি এবং কৃষকের বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে নিশ্চিত হয় তার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি এবং বর্তমানে সেচকাজে আমরা সোলার প্যানেল ব্যবহারও শুরু করে দিয়েছি।’

ন্যায্য মূল্য যাতে আমাদের কৃষকরা পান তার জন্য সরকার যথাযথ দাম নির্দিষ্ট করেছে এবং কৃষকদের সহায়তা দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকের গুদামে যাতে খাদ্য সংরক্ষিত থাকে, প্রত্যেক কৃষকের ঘরে খাদ্য যেন থাকে, কারণ যারা উৎপাদন করবে তারা খাবার পাবে না বা তাদের ছেলে-মেয়েরা খাদ্যে কষ্ট পাবে, এটা হতে পারে না। আমরা সে ব্যবস্থাও নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি এবং সেই সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এবারও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সে ধরনের সহযোগিতা পাবে। তার জন্য থোক বরাদ্দ রাখছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। কৃষক একটা মোবাইল ফোন ধরে ছবি তুলে তার ফসলের কী অবস্থা, মাটির কী অবস্থা বা মাটি পরীক্ষা করা এবং কী ধরনের সার ব্যবহার করবে, কতটুকু ব্যবহার করবে বা কীটনাশক ব্যবহার করবে কি না বা কতটুকু করবে সেই ধরনের কৃষি তথ্য যাতে তারা পেতে পারে সেই তথ্যকেন্দ্রসমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। সেখান থেকে কৃষক তার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর মোবাইল ফোনও আমরা সকলের হাতে তুলে দিয়েছি।’

তাঁর সরকার গবেষণার ওপর সব সময় অধিক গুরুত্বারোপ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি, তখন থেকেই কৃষি গবেষণায় আমরা গুরুত্ব দিই। আজকে গবেষণার ফলে আরো নতুন নতুন ধরনের ফসল উৎপাদন—তরিতরকারি, ফলমূল এবং দানাদার খাদ্যশস্য থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য যেন উৎপাদন হতে পারে তার জন্য ব্যাপক হারে গবেষণা হচ্ছে এবং উন্নত মানের বীজ আমরা সরবরাহ করছি। এর ফলে আজকে কৃষক খুব অল্প কষ্টে অধিক পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করতে পারছে। ধান, গম, ভুট্টা এবং সব ধরনের ফসল উৎপাদন করার সুযোগ পাচ্ছে। তা বাজারজাত করার ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি।’

শেখ হাসিনা করোনায় ধান কাটার সমস্যায় তাঁর দল এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।