kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

কাউন্সিলরপুত্রের নাম সব অপরাধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলালের পুত্র সাব্বির আহমেদ রাজ। গাজীপুর মহানগরীর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ তাঁকে চেনে ‘রাজ’ নামে। বয়স ২৫। এ বয়সেই মাদক বাণিজ্য, দখল বাণিজ্য, সন্ত্রাস, ডিশ-ইন্টারনেট বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে তাঁর নাম। তাঁর রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীও। বাবা ওয়ার্ড কাউন্সিলর আর বড় ভাই যুবলীগ নেতা হওয়ায় বেপরোয়া রাজ।

সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিল স্কুলছাত্র শাকিল খুনের নেপথ্যেও উঠে এসেছে রাজের নাম। আর ছেলেকে রক্ষায় মাঠে নেমেছেন বাবা কাউন্সির সাইফুল ইসলাম দুলাল। টাকা দিয়ে শাকিলের দরিদ্র বাবাকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলরের বড় ছেলে যুবলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কাউন্সিলরের হয়ে লাশ পরিবহন এবং দাফন-কাফনে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, এর বেশি কিছু না।’

সম্প্রতি ওই ওয়ার্ডের গাছার চান্দুরা এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম ওরফে জুয়েল মণ্ডল বলেন, “আধিপত্য নিয়ে রাজের ক্যাডারদের হাতে গত ১২ এপ্রিল খুন হয় ছাত্রলীগকর্মী শাকিল। এ খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা সবাই রাজের ক্যাডার। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাজের প্রধান ক্যাডার হাবিবুল্লাহকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে। শাকিল খুনের পর মামলা থেকে ছেলেকে রক্ষায় মাঠে নেমেছেন কাউন্সিলর দুলাল। বাড়িতে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেন শাকিলের দরিদ্র বাবাকে। ঘটনার পরদিন কাউন্সিলরের ছেলের অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে সরকারি কাজে ব্যবহৃত ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।”

ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘কাউন্সিলর বাবার ছত্রচ্ছায়ায় রাজ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব করছে। মাদক, দখল বাণিজ্য, ঝুট, ডিশ, ইন্টারনেট, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে এলাকার ছোট-বড় সব অপরাধের সঙ্গে জড়িত রাজের নাম। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রাজের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। শুধু চাঁদাবাজি থেকেই রাজের মাসে আয় অন্তত ১২ লাখ টাকা।’

মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রাকিব হাসান মণ্ডল বলেন, ‘এলাকায় কেউ নতুন ঘর-বাড়ি তৈরি করলে ইট-বালু, সিমেন্ট, রড থেকে যাবতীয় মালপত্র রাজের কাছ থেকে ক্রয় করা বাধ্যতামূলক। বাজার মূল্যের চেয়ে দাম বেশি নেওয়ায় কেউ নিতে না চাইলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগে এলাকায় ডিশ ব্যবসা করতেন জসিম সরকার। ইন্টারনেট ব্যবসা করতেন মো. মাসুদ। দুলাল কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর জসিম ও মাসুদকে হটিয়ে ব্যবসা দখল করে রাজ। রাজের রয়েছে ২০-২৫ জনের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী।’

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, “কাউন্সিলর দুলাল ছেলেকে শাসন না করে প্রশ্রয় দেন। তাঁর দুই ছেলে তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ছেলের ক্যাডাররা মোটরসাইকেলে সিটি করপোরেশনের ‘কাউন্সিলর’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে এলাকা চষে বেড়ায়।”

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে একাধিকবার রাজকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, ‘জুয়েল মণ্ডলের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আমাদের পুরনো দ্বন্দ্ব আছে। আগামী নির্বাচনে জুয়েল কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমার ইমেজ নষ্ট করতে সে উঠেপড়ে লেগেছে। আমার ছেলে এবং আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে জুয়েল।’

গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, রাজের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠায় বাবা কাউন্সিলর দুলালকে অনেকবার সতর্ক করা হয়েছে। নতুন করে অপরাধে জড়ালে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।



সাতদিনের সেরা