kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

বাঁশখালীর ঘটনায় দুই মামলা

আসামি সাড়ে তিন হাজার

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাঁশখালীর ঘটনায় দুই মামলা

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গত শনিবার সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে।

বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক রাশেদুজ্জামান বাদী হয়ে যে হত্যা মামলাটি করেছেন সেটিতে আসামি দেখানো হয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার শ্রমিক ও বহিরাগতকে। অন্য মামলাটির বাদী হয়েছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়কারী মো. ফারুক। সেই মামলায় গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামের আমান উল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদকে প্রধান আসামি দেখিয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অচেনা আসামি দেখানো হয়েছে এক হাজার ৪০ থেকে এক হাজার ৫০ জনকে। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে শ্রমিক বিক্ষোভ থামাতে পুলিশ ২৭০ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদেশি শ্রমিক ছাড়া কর্মরত দেশের ১০ হাজার শ্রমিক সবাই গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে গেছেন।

সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের উদ্যোগে গঠিত দুটি কমিটির সদস্যরা তদন্ত শুরু করেছেন। জেলা প্রশাসনের চার সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির আহমেদ, কলকারখানা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের লেবার পরিদর্শক মাসুদ রানা ও বিদ্যুৎ বিভাগ চট্টগ্রামের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী অভিজিৎ কুরি। ওই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের তিন সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার নেছার আহমেদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির হোসেন। ওই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

বাঁশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ সফিউল কবির বলেন, দোষীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠ পর্যায়ে অভিযানে চালাচ্ছে।

গত শনিবার সকালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে পাঁচ শ্রমিক নিহত ও ৩২ জন আহত হন।

বিচার বিভাগীয়

তদন্ত দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা) জানান, বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জোটের নেতারা ওই ঘটনায় দায়ী মালিকপক্ষ, পুলিশ, আনসার ও সিকিউরিটি গার্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

গতকাল রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বক্তব্য দেন সিপিবি নেতা সাজেদুল হক রুবেল, বাসদের (মার্কসবাদী) নেতা মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুঁইয়া, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লিগের তৈমুর খন্দকার অপু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির আমেনা বেগম এবং সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক। এ ছাড়া বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ।

জোটের সমাবেশে নেতারা বলেন, বাঁশখালীতে এস এস পাওয়ার প্লান্টের শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ ন্যায়সংগত দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে মালিকের নির্দেশে পুলিশ, আনসার, সিকিউরিটি ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে পাঁচজন নিহত ও অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন। ২০১৬ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের শুরুতে ফসলি জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করলে গুলি করে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছিল। সেটির বিচার হলে হয়তো আবার হত্যাকাণ্ড হতো না। পাওনা পরিশোধ না করে শ্রমিকদের হত্যার দায়ে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি বাতিলের দাবি জানান তাঁরা। নেতারা বলেন, নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় খরচে সুচিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন করতে হবে। করোনায় লকডাউন চলাকালে শ্রমজীবীদের এক মাসের খাদ্য, পাঁচ হাজার টাকা এবং বিনা মূল্যে করোনা টেস্ট, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবিও জানান নেতারা।