kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

করোনা ভোগাচ্ছে বিএনপিকে

শফিক সাফি   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনা ভোগাচ্ছে বিএনপিকে

মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন কিংবা স্লোগানের রাজনীতির চিরচেনা দৃশ্যপট বদলে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সাংগঠনিক প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেটি জানিয়ে দিয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাব কমে না আসা পর্যন্ত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরুর বিষয়ে ভাবছে না তারা।

জানা গেছে, আগামী মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরুর কোনো সুযোগ নেই মনে করছে বিএনপি। দলটির প্রধান খালেদা জিয়াসহ অর্ধশতাধিক সিনিয়র নেতা করোনায় আক্রান্ত। সারা দেশে মারা গেছেন দলের প্রায় ৪৫০ জন নেতাকর্মী। চলতি বছরে আন্দোলনের মাধ্যমে মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর যে পরিকল্পনা দলটি নিয়েছিল, সেটি এখন বাধাগ্রস্ত। তাই বিএনপি নেতারা বলছেন, করোনা খুবই ভোগাচ্ছে বিএনপিকে। করোনার কারণে নেই দলটির ইফতার রাজনীতিও। প্রতিবছর বিএনপির পক্ষ থেকে প্রায় সাত-আটটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হতো। এবার সেটি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যের জন্য নেতাকর্মীদের মনোযোগী হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে দেশের যে অবস্থা সেটি আমরা আগে থেকেই বলে আসছি। কিন্তু এই সরকার তো কানে শোনে না। পরিস্থিতির কারণে বিএনপি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখেছে, আগামী ঈদের আগে তা শুরুর সম্ভাবনা নেই বলে মনে হয়।’

বিএনপি নেতারা বলছেন, তাঁরা চলতি বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, মাঠেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছিল সিরিজ কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু করোনা তাতে বাদ সেধেছে। গত বছরের শুরুতে করোনা মহামারির কারণে টানা প্রায় ছয় মাসের মতো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় বিএনপি। এরপর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু হলেও করোনা মহামারি খুব একটা এগোতে দেয়নি। সম্প্রতি করোনার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় গত ৩ এপ্রিল দলের সব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত করে দলটি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘করোনায় বিএনপি নানাভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ, সিনিয়র থেকে সারা দেশের নেতাকর্মীরা আক্রান্ত, মারা গেছেন বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা। করোনা বেশ ভালোই ভোগাচ্ছে বিএনপিকে।’

করোনা সংকটের কারণে রমজানে কোনো উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি নেই বিএনপির। গত বছরও করোনা সংকটের কারণে রমজানে কোনো কর্মসূচি ছিল না। এর আগে প্রতিবছর দলের পক্ষে সাত-আটটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হতো। যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো। এবার ইফতার মাহফিল করা যাবে কি না, সেটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয় তাহলে এতিম ও উলামা-মাশায়েখদের সম্মানে, রাজনীতিবিদদের সম্মানে, পেশাজীবীদের সম্মানে ও কূটনীতিবিদদের সম্মানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চারটি ইফতারের আয়োজন হতে পারে। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে সেটিও বাদ দেওয়া হবে।

বিএনপি দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে আমাদের দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। যে কারণে দলের পক্ষ থেকে এবার রমজানে আমাদের কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি।’

সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখনো হাসপাতালের চিকিৎসা নিচ্ছেন সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এ কে এম আজিজুল হক, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ কয়েকজন।

গত বৃহস্পতিবার আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে নেওয়া হয়েছে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীকে। ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও স্ত্রী কামরুন নাহার সৃষ্টি, দুই মেয়ে জান্নাতুন ইসি সূচনা ও অপরাজিতা খানও আক্রান্ত। সহসাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম ও তাঁর স্ত্রী সাবরিনা শুভ্রা, সাবেক ছাত্রনেতা রকিবুল ইসলাম বকুল, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল এখনো করোনা পজিটিভ।

সূত্রগুলো বলছে, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ হক, ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, কুমিল্লা বিভাগ সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, উলামা দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি সদস্য মাওলানা কাসেমী, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার আহাদ আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী টি এম গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনসহ সারা দেশে প্রায় ৪৫০ জন নেতাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।