kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ

পৃথক দুই ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদারীপুরের রাজৈরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তাকে মারধরও করা হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ ছাত্রীটিকে গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে পরিবার। বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ এবং ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এক শিশুকে (৮) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজৈরে অভিযুক্ত চিরঞ্জিত মোড়ল (২৫) উপজেলার আমগ্রামের কৃষ্ণ মোড়লের ছেলে। ঘটনার পর থেকে চিরঞ্জিত পলাতক। নির্যাতিত স্কুলছাত্রী, পরিবার, স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ছাত্রীটিকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করেন পূর্বপরিচিত চিরঞ্জিত। পরে তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে মারধরসহ নির্যাতন করেন। সর্বশেষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ছাত্রীটিকে মুখ ও হাত-পা বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্রীর বাড়ির পাশে পুকুরপারে নিয়ে যান। মেয়েটির ধস্তাধস্তির আওয়াজ শুনে পরিবারের লোকজন এগিয়ে গেলে পালিয়ে যান চিরঞ্জিত ও তাঁর সহযোগীরা। শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, গতকাল শনিবার সকালে হাসপাতালে ছাত্রীর প্রাথমিক মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদী বলেন, শিক্ষার্থী অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার জিডি করেছিল। তার পরই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে।

ফকিরহাটে গত মঙ্গলবারের ঘটনায় নির্যাতিত কলেজছাত্রী শুক্রবার রাতে মডেল থানায় একটি মামলা করেন। রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত অনিক বোসকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে। তিনি উপজেলার রাজপাট গ্রামের অমল বোসের ছেলে। মামলার বিবরণে জানা গেছে, কলেজছাত্রীর সঙ্গে পাঁচ মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনিকের পরিচয় ও পরে প্রেম হয়। অনিক কলেজছাত্রীর বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়িতে কলেজছাত্রীকে একা পেয়ে ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন অনিক। পরে দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দৃশ্যটি ছড়িয়ে দেন। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি আবু সাঈদ খায়রুল আনাম জানান, মামলাটি তদন্তাধীন।

বোয়ালমারী উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের চন্দনা-বারাশিয়া নদীর উত্তর পারে রায়পুর শ্মশানসংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল শিশুটির মা বোয়ালমারী থানায় করাতকল মিস্ত্রি ইউনুচ শেখকে (৫০) আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ইউনুচ গুণবহার বাগুয়ান গ্রামের বাসিন্দা। শিশুটি ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আমীর হামজা জানান, শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় শুক্রবার রাতে হাসপাতালে আনা হলে ধর্ষণচেষ্টার লক্ষণ পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক রিপন কাজী বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর এবং মাদারীপুর, ফকিরহাট (বাগেরহাট) ও বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি]