kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

দেখে যেতে পারলেন না ‘কবরী রোড’

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেখে যেতে পারলেন না ‘কবরী রোড’

‘কবরী রোড’ নামে একটি সড়ক আছে চুয়াডাঙ্গায়। শহরের কেন্দ্রস্থলের এই সড়কটি চেনে না—এমন মানুষ জেলায় বিরল। ৫২ বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে প্রচার হতে হতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে কবরী রোড নামটি। দেশ স্বাধীনের আগে চিত্রনায়িকা কবরী অভিনীত সিনেমার কিছু দৃশ্য এখানে ধারণ করা হয়েছিল। এরপর চুয়াডাঙ্গার মানুষ এই সড়কটির নাম রাখে কবরী রোড, যা আজও টিকে আছে।

কবরী নিজেও জানতেন তাঁর নামে চুয়াডাঙ্গার একটি সড়কের নাম রাখা হয়েছে। কথা প্রসঙ্গে কয়েক বছর আগে তিনি ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সুযোগ পেলে আমি চুয়াডাঙ্গায় যাব কবরী রোড দেখতে।’ কবরীর সেই আশা পূরণ হয়নি। করোনার কাছে হার মেনে তিনি চিরবিদায় নিয়েছেন।

চিত্রনায়িকা কবরীর মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে কবরী প্রসঙ্গ। এর সঙ্গে যোগ হয় কবরীর সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার যোগসূত্র। যোগাযোগ মাধ্যমে লেখা হয়, কবরী রোড, কবরী মেস, অভিনয় করেছেন চুয়াডাঙ্গার কোথায় কোথায় এসব বিষয়ে।

জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে চুয়াডাঙ্গায় ‘কখগঘঙ’ নামের একটি সিনেমার শুটিং হয়েছিল। ওই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন রাজ্জাক ও কবরী। ‘কখগঘঙ’ সিনেমায় শুটিংয়ের আগেই কবরী দেশবাসীর আছে পরিচিতি পেয়েছিলেন। এ কারণে মানুষের আগ্রহ ছিল তাঁকে দেখার। সিনেমার বড় অংশের শুটিং হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও চুয়াডাঙ্গা কলেজের মাঝের সড়কটিতে। তখন থেকেই সড়কটির নাম কবরী রোড হয়ে যায়। যে বাড়িতে শুটিং হয়েছিল সেই বাড়ির একটি অংশের নাম রাখা হয়েছে ‘কবরী মেস’। শুটিং চলাকালে কবরী এখানে ছিলেন প্রায় এক মাস।

দীর্ঘ ৫২ বছরে কবরী রোডটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই সড়কে রয়েছে বেশ কিছু সরকারি অফিস, বড় কয়েকটি মোবাইল ফোনের বিক্রয়কেন্দ্র, কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্যের বাসভবন প্রভৃতি। জেলা শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শহীদ আবুল কাশেম সড়ক ও শহীদ রবিউল ইসলাম সড়কের মাঝে সংযোগ স্থাপন করেছে ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের কবরী রোডটি।

কবরীর মৃত্যুর পর তাঁর চুয়াডাঙ্গার ভক্তরা কবরী রোডের ছবি, কবরী অভিনীত ‘কখগঘঙ’ সিনেমার স্থিরচিত্র কিংবা ভিডিও দিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘কবরী রোডটি কবরী দেখে যেতে পারলেন না।’

চিত্রনায়িকা চুয়াডাঙ্গার কবরী রোড প্রসঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কবরী আছেন মানুষের অন্তরে। বিশেষ করে সাদাকালো যুগের মানুষ কবরী সারোয়ারকে মনে রেখেছেন। তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কবরী রোডে নতুন করে কিছু করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আশা করছি উদ্যমী অনেককে পাওয়া যাবে। কবরী চুয়াডাঙ্গার যেসব স্থানে গেছেন সেসব স্থানেও তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এভাবেই আমরা চুয়াডাঙ্গার নতুন প্রজন্মের কাছে অনেক দিন কবরীকে ধরে রাখতে পারব।’