kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

বাসায় তারেক শামসুর রেহমানের লাশ

হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু বলে ধারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাসায় তারেক শামসুর রেহমানের লাশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, প্রখ্যাত রাজনৈতিক-আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. তারেক শামসুর রেহমানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের ৪ নম্বর সড়কের ১২/এ দোলনচাঁপা ভবনের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। ফ্ল্যাটটিতে তিনি একাই থাকতেন।

পুলিশ, স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, শোবার ঘরের বাথরুমের সামনে তারেক শামসুর রেহমানের নিথর দেহ পড়ে ছিল। একটি পা বাথরুমের ভেতর আর দরজার সামনে বমি ও রক্তের ওপর বাকি শরীর পড়ে ছিল। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, রক্তচাপ, শ্বাসকষ্টসহ কিছু জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে একা বাসায় থাকা এবং হঠাৎ মৃত্যুর কারণে পুলিশ সন্দেহ থেকে সরে যাচ্ছে না। চুরি, ডাকাতি বা ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে তাঁকে বিষপানে হত্যা বা অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাই তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। তাঁর খালাতো ভাই বদরুল আলম বলেন, ‘তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে দাফন ও আইনগত ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান তারেক শামসুর রেহমান গবেষক ও কলাম লেখক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা, গণমাধ্যম, রাজনীতিসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবাই তাঁর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অধ্যাপক রেহমানের প্রতিবেশী জাবির নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক শফিক উর রহমান জানান, রাতে বাসায় একা ঘুমিয়ে ছিলেন অধ্যাপক রেহমান। অনেক সকাল হলেও ঘুম থেকে না ওঠায় বিষয়টি পুলিশকে জানায় প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশ গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে মৃত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে। ঘটনার সময় তাঁর বাসায় আর কেউ ছিল না।