kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

মুজিবনগর দিবসে শ্রদ্ধা

‘সরকারের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ—করোনা ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বর্তমানে সরকারের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি করোনার প্রাণঘাতী দ্বিতীয় ঢেউ এবং অন্যটি স্বাধীনতার চেতনার শত্রু সাম্প্রদায়িকতাকে প্রতিরোধ। দিবসটি উপলক্ষে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ নেতারা এবং মেহেরপুর প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সকাল পৌনে ৬টার দিকে স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রথমত তরঙ্গরূপে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশে যে আঘাত হেনেছে, সেটাকে প্রতিরোধ ও পরাজিত করতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছি। তা মোকাবেলা করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শক্তিকে সংহত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত মুজিবনগর সরকার তথা স্বাধীনতার চেতনার সবচেয়ে বড় শত্রু সাম্প্রদায়িকতাকে রুখতে হবে, প্রতিহত ও পরাজিত করতে হবে। মূলত এই দুটি চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করব এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকেও পরাজিত করব।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মোকাবেলায় সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। সরকারের আন্তরিকতা, চেষ্টা বা সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই। সব ধরনের ঘাটতি সরকার পূরণ করার চেষ্টা করছে। করোনা নিয়ে দুনিয়াব্যাপী যে সংকট, তা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তবে বাংলাদেশ অনেক দেশের তুলনায় ভালো আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখের মতো করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। কাজটা খুবই দুরূহ ও কঠিন চ্যালেঞ্জের। শেখ হাসিনার মতো সাহসী কাণ্ডারি আমাদের সঙ্গে আছেন, প্রথম তরঙ্গ মোকাবেলায় তিনি বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। জীবনের সঙ্গে জীবিকার সমন্বয় করে তিনি পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। আজও নেত্রীর ওপর আমাদের ও দেশের জনগণের আস্থা রয়েছে।’

এ সময় দলের নেতা মতিয়া চৌধুরী, ড. হাছান মাহ্মুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আফজাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মুজিবনগরে শ্রদ্ধা নিবেদন

কালের কণ্ঠ’র মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘হেফাজত ইসলাম জামায়াতে ইসলামের বি টিম। হেফাজত, জামায়াত, বিএনপিরা এক ও অভিন্ন। যারা হেফাজতে আছে তারা সংবিধান মানতে চায় না, তারা জাতীয় সংগীত গাইতে চায় না, জাতীয় পতাকাকে সম্মান করতেও চায় না। বিএনপির নেতৃত্বে এরা শক্ত দানা বেঁধেছে। ২০১৩ সালে যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে সাজা দিয়ে বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, এই ধর্ম ব্যবসায়ী, যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করতে চাচ্ছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদেরও বিষদাঁত উপড়ে ফেলা হবে।’

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে তাঁর সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন, মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মনসুর আলম খান, পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলি প্রমুখ। এর পরপরই পুলিশ ও আনসার বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।

এদিন সকাল পৌনে ৬টার দিকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন।



সাতদিনের সেরা