kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

কুড়িগ্রামে ঝড়ে নিহত ১, ফসলের ক্ষতি

কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে গত শুক্রবার রাতে বয়ে গেছে ঝড়। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে একজন নিহত হয়েছেন। শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়াসহ বহু গাছপালা ভেঙে গেছে। উঠতি বোরো, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নীলফামারীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে হয়েছে বৃষ্টি। এতে বিক্ষিপ্তভাবে ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে গাছপালা ও কাঁচা ঘরবাড়ি। তবে বৃষ্টির কারণে বোরো ক্ষেতের উপকার হয়েছে। কয়েক দিনের দাবদাহে অতিষ্ঠ মানুষের মাঝে স্বস্তি এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে রাত ১১টার পর কালবৈশাখী আঘাত হানে। এ সময় ইউক্যালিপটাসগাছের নিচে চাপা পড়ে উলিপুরের হাতিয়া কুমারপাড়া গ্রামের মমির উদ্দিনের (৪২) মৃত্যু হয়। তিনি অনন্তপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে গাছের নিচে চাপা পড়েন। তাঁর আর্ত-চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাঈদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সদর উপজেলার সারডোব গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, ঝড়ে তাঁর দুটি ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি সদ্য শীষ বেরোনো চার বিঘা বোরো ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই গ্রামের মজলুম মিয়া, মহিজন, মফিজল মিয়া, বাবু মিয়া, আমজাদ হোসেন ও আবিয়ার ঘরের চাল উড়ে গেছে ঝড়ে। কয়েকটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। সারডোবের কৃষক তাজুল ইসলাম, আব্দুল খালেক ও নুরুল ইসলাম জানান, তাঁদের বোরো ধান মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে। সদ্য শীষ বেরোনো এসব ক্ষেতের ধানের অধিকাংশ চিটায় পরিণত হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

নীলফামারী জেলায় গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ মিলিমিটার। কৃষি বিভাগের দাবি, এই বৃষ্টিপাত মাঠের বিভিন্ন ফসলের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের কৃষক মিল্লাদুর রহমান (৩২) বলেন, ‘আমার পেঁপে ও কফির বাগানসহ বোরো আবাদ রয়েছে মাঠে। ঝড় শুরুর সঙ্গে এসব ফসলের ক্ষতির শঙ্কায় ছিলাম। অবশেষে ঝড়টি হালকাভাবে বয়ে যাওয়ায় তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে বৃষ্টি ফসলের জন্য উপকারে এসেছে।’