kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

সরবরাহ স্বাভাবিক তবু বেড়েছে পণ্যের দাম

দুর্বল মনিটরিংয়ে নাকাল ভোক্তা

রোকন মাহমুদ   

১৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরবরাহ স্বাভাবিক তবু বেড়েছে পণ্যের দাম

বরাবরের মতোই এবারও রোজার শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সবজির দাম। অথচ বাজারে কোনো পণ্যেরই ঘাটতি নেই। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থাও ঠিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন খোদ ব্যবসায়ীরা। তার পরও পণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য বাজার মনিটরিংয়ে দুর্বলতাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশন। এর বাইরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করার কথা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজারে মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ছয়টি পণ্য মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, চিনি, খেজুর, পেঁয়াজ ও ছোলা অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে খোলা বাজারে বিক্রি করছে।

রোজার আগে বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমদানি, সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রমজানে বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় আমদানি করা সব পণ্য এরই মধ্যে দেশে এসেছে। রমজানে মন্ত্রণালয়ের ২৮টি মনিটরিং টিম মাঠে থাকবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সারা দেশে বাজার মনিটর করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনাও দিয়েছে। দেশে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক কমিয়ে ব্যাপক হারে চাল আমদানি করা হয়। সপ্তাহখানেক আগে ভোজ্য তেল আমদানিতে অগ্রিম কর কমানো হয়েছে ৪ শতাংশ।

কিন্তু এত কিছুর পরও রোজা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দামের লাগাম আলগা হয়ে যায়। বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে সবজিসহ কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। রোজার কয়েক দিন আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ কাঁচা সবজির বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। প্রথম রোজার দিন কিছু সবজির দাম দু-তিন গুণ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে দাম বেড়েছে মাছ ও মুরগির মাংসের। গরুর মাংসের দাম বেঁধে না দেওয়ায় সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম নিচ্ছেন। চাল, ডাল, তেল, চিনির দাম আগে থেকেই বাড়তি।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী যমুনা ভাণ্ডারের মালিক দ্বিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার রমজানে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। সমস্যা হলো ক্রেতা একটু বেশি হলেই দাম বাড়তে থাকে। আবার যারা মাঝরাতে কম দামে কিনে নিয়ে যান খুচরা পর্যায়ে তারা বাড়তি দামেই বিক্রি করেন। ফলে কম দামের সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে না।

রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে চাল, ডাল, তেল, চিনি সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। মালিবাগ বাজারের মরিয়ম স্টোরের মালিক ইসহাক বলেন, ‘বাজারে চাল, ডাল, তেলের কোনো ঘাটতি নেই, তবে দাম বেশি। পাইকারিতে বেশি হলে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হয়।’

সরকারের নির্দেশ অনুসারে বাজারের প্রবেশমুখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দর টানিয়ে রাখার বিধান থাকলেও তা মানছে না অনেকেই। যারা দাম লিখে রাখছে তারাও বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি লিখে রাখছে। এ বিষয়ে তাদের কেউ কিছু বলছেও না। কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও দেখা যাচ্ছে না কোনো সংস্থাকেই।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি নাজের আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। তাই তারা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিমভাবে সরবরাহব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করলেও সরকার এর প্রতিকার করতে পারে না। ফলে বাজারও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।